প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া। ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া জুড়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার ফলে ভূমিধস, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল জলের তলায়। এই দেশগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ইন্দোনেশিয়া। বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় ৪৪২ জন নিহত ও ৪০০–র বেশি মানু্্ষ নিখোঁজ।
বেশ কয়েকদিন ধরেই গোটা ইন্দোনেশিয়া জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যার ফলে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যায় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ সুমাত্রা দ্বীপ। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত। সুমাত্রা দ্বীপের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ, অন্তত দুটি শহরে রবিবার পর্যন্ত উদ্ধারকারী পৌঁছতে পারেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য জাকার্তা থেকে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হচ্ছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহর সিবোলগা এবং উত্তর সুমাত্রার মধ্য তাপানুলি জেলায় ত্রাণ পৌঁছনোর কাজ ধীর গতিতে চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বন্যাপীড়িত সাধারণ মানুষ ভাঙা ব্যারিকেড, প্লাবিত রাস্তা এবং ভাঙা কাঁচ পেরিয়ে খাবার, ওষুধ এবং গ্যাস কেনার জন্য ছুটে যাচ্ছে। কেউ কেউ কোমর সমান বন্যার জলের মধ্য দিয়ে হেঁটে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। আরও ৪০২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সাধারণ মানুষ খাবার ও জলের সন্ধানে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে যে, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সুমাত্রা দ্বীপের কিছু অংশে পৌঁছনোর জন্য চেষ্টা করছে, কারণ সেখানে হাজার হাজার মানুষ খাবার ও জল ছাড়াই বন্যার জলে আটকে পড়ে রয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভারী সরঞ্জামের অভাবও উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার পক্ষ থেকে সুমাত্রার দুটি শহর সেন্ট্রাল তাপানুলি ও সিবোলগাতে জাহাজের মাধ্যমে ত্রাণ পাঠানোর চেষ্টা করছে। সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সেন্ট্রাল তাপানুলি ও সিবোলগা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। এই দুটি শহরের ওপর পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সোমবার ত্রাণ নিয়ে দুটি জাহাজ সিবোলগায় পৌঁছনোর কথা।’
ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ষা মৌসুম। এই এলাকায় প্রায়শই ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার ফলে ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এবছর গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ঝড়ের ধরণকে প্রভাবিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির হার দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ।