পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, যে কোনও সময় সীমান্ত পরিবর্তন হতে পারে। সিন্ধু প্রদেশ আজ ভারতের অংশ না হলেও, এই অঞ্চলটি ভারতের সভ্যতাগত ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৯৪৭ সালের আগে অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল। তারপর পাকিস্তানে চলে যায়। ভবিষ্যতে আবার ভারতে ফিরে আসতে পারে। অর্থাৎ তাঁর কথাতেই সিন্ধু প্রদেশ দখলের ইঙ্গিত। রাজনাথ সিং এমন এক সময় এই মন্তব্য করলেন, যখন পাকিস্তান মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ভারতের কাছে একটা বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার সিন্ধি সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, ‘ভারত বিভাগের কারণে সিন্ধু নদীর একটি বড় অংশ পাকিস্তানে চলে গেছে। পুরো সিন্ধু প্রদেশ আজ পাকিস্তানে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সিন্ধু নদী, সিন্ধু প্রদেশ এবং সিন্ধি সমাজের গুরুত্ব আমাদের কাছে কমে গেছে। আমাদের কাছে তাদের গুরুত্ব আজও একই রকম রয়ে গেছে, যেমন হাজার হাজার বছর ধরে ছিল। আজ, সিন্ধুর ভূমি ভারতের অংশ নাও হতে পারে। কে জানে, ভবিষ্যতে সিন্ধু আবার ভারতে ফিরে আসবে না।’
রাজনাথ সিং আরও বলেন, ‘এই কারণেই ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের জাতীয় সঙ্গীত থেকে সিন্ধু শব্দটি অপসারণের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেছিল, সিন্ধু শব্দটিকে কেবল একটি ভৌগোলিক স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা উচিত নয়। কারণ এই শব্দটি ভারত এবং সিন্ধি সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সাথে যুক্ত।’
আরও পড়ুনঃ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের দল ঘোষণা ভারতের, ২ বছর পর আবার নেতৃত্বে লোকেশ রাহুল, নেই বুমরা–সিরাজ
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সিন্ধি সম্প্রদায়কে ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং আত্মসম্মানের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আজ, যখন আমরা সিন্ধি সম্প্রদায়ের কথা বলি, তখন আমরা কেবল একটা সম্প্রদায়ের কথা বলি না। বরং এমন একটা ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরি, যা সনাতন ধর্মের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। যা ভগবান রামের মধ্যে প্রোথিত এবং আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার সমৃদ্ধিতে অমূল্য অবদান রেখেছে।’ রাজনাথ সিং আরও বলেন, ‘সিন্ধি সম্প্রদায় আজ ভারত এবং বিশ্বজুড়ে কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিভার জন্য পরিচিত। সিন্ধি সম্প্রদায়ও তাদের অনন্য পরিচয় বজায় রেখেছে। সিন্ধি ভাষার মাধুর্য, সাধুদের কাব্যিক কবিতা, অথবা সিন্ধি শিল্পের প্রাণবন্ততা, এগুলো আমাদের ভাগ করা ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে।’
দেশভাগের সময় সিন্ধিদের সাহসের প্রশংসা করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ‘দেশ ভাগের কঠিন সময়েও, যখন সিন্ধি সম্প্রদায়কে তাদের জন্মভূমি ছেড়ে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল, তখনও সাহস হারায়নি। শুধুমাত্র নিজেদের জন্য অন্য একটা নতুন যুগের সূচনা করেননি, বরং ব্যবসা, শিক্ষা, শিল্প এবং সমাজসেবার ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে।’ লালকৃষ্ণ আদবানির লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে রাজনাথ সিং উল্লেখ করেন যে, সেই প্রজন্মের অনেক সিন্ধি হিন্দু ভারত থেকে সিন্ধুর বিচ্ছিন্নতা পুরোপুরি মেনে নেননি। তিনি আরও বলেন, সিন্ধুর হিন্দু এবং অনেক মুসলিম উভয়ই ঐতিহাসিকভাবে সিন্ধু নদীর জলকে পবিত্র বলে মনে করতেন।