দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগরের এক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি, যাদের অধিকাংশই মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির নাগরিক। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। ধোঁয়ায় ভরা ভবন থেকে বাঁচতে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করলে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রাণে বাঁচতে শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনতলা থেকে ঝাঁপ দেন এক মহিলা।
বুধবার সকালে ‘ফ্লোরিশ স্টে বিঅ্যান্ডবি’ নামের এই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হোটেলটি দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ প্রকল্পের অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে আগুন ও ঘন ধোঁয়া থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে দুজন মহিলা ভবনটি থেকে লাফ দিচ্ছেন। আগুন লাগার খবর পেয়েই দমকলের ৮টি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসে। এরপর দমকলবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজে নেমে পড়ে। প্রাথমিকভাবে দুটি ওয়াটার টেন্ডার, দুটি ওয়াটার বাউজার, একটা কুইক রেসপন্স ভেহিকেল এবং অন্যান্য অগ্নিনির্বাপক ইউনিট অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে আরও কয়েকটা ইঞ্জিন এসে পৌঁছয়। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
‘ফ্লোরিশ স্টে বিঅ্যান্ডবি’ হোটেলটিকে বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট প্রকল্পের অধীনে ৬টি ঘর পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে যে এটা বেসমেন্টের কয়েকটা ঘরসহ মোট ২৫টি ঘর ব্যবহার করছিল, যা নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা বিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বেসমেন্টের ঘর থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের মতে, হোটেলটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটাই মাত্র পথ ছিল।
দিল্লি দমকলবাহিনীর প্রধান মালভিয়া নগরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রাতমিক তদন্ত করে জানিয়েছেন, হোটেলটির কোনও অগ্নি নির্বাপক ছাড়পত্র ছিল না। তিনি আরও জানান যে, পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিচালিত বেশ কয়েকটি হোটেলেরও অগ্নি নির্বাপক ছাড়পত্র নেই, যা ওই এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা বিধি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার পর ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং এর একাধিক তলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যদিও আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ও আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তিনি এক্স–এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘দিল্লির মালভিয়া নগরে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনাটি মর্মান্তিক। যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা প্রদান করছে। প্রত্যেক মৃতের নিকটাত্মীয়কে পিএমএনআরএফ-এর পক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা করে এককালীন অনুদান দেওয়া হবে। আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।’ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।