ট্রেন্ডিং

FIFA World Cup 2026

বিবর্ণ কিলিয়ান এমবাপে, কৌশলে বাজিমাত ফুয়েন্তের, ফ্রান্সকে মাটিয়ে ধরিয়ে ফাইনালে স্পেন

গ্রুপ পর্ব থেকেই একেবারে অপ্রতিরোধ্য। কোনও ম্যাচ দেখে মনে হয়নি দিদিয়ের দেশঁ–র দল হারতে পারে। একটা খারাপ দিনেই স্বপ্ন শেষ। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২–০ ব্যবধানে হেরে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল ফ্রান্সের। গোটা প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত খেলা কিলিয়ান এমবাপে, উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসেরা সেমিফাইনালে এসে একেবারে বিবর্ণ।

ফাইনালে ওঠার পর স্পেনের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৬
Share on:

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে শক্তিশালী দল ছিল ফ্রান্স। রক্ষণ থেকে মাঝমাঠ, আক্রমণভাগ, সব বিভাগেই দক্ষ ফুটবলার। গ্রুপ পর্ব থেকেই একেবারে অপ্রতিরোধ্য। কোনও ম্যাচ দেখে মনে হয়নি দিদিয়ের দেশঁ–র দল হারতে পারে। একটা খারাপ দিনেই স্বপ্ন শেষ। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২–০ ব্যবধানে হেরে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল ফ্রান্সের। গোটা প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত খেলা কিলিয়ান এমবাপে, উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসেরা সেমিফাইনালে এসে একেবারে বিবর্ণ। 

দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এসেছিল ফ্রান্স। স্পেনের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ফেভারিট হিসেবেই মহাযুদ্ধে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, উসমান ডেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা এবং মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগ স্পেনের স্থিরতা ও শক্তির কাছে স্তব্ধ হয়ে যায়। ফ্রান্সের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা মাইকেল ওলিসে। ওলিসেকে আটকে দিতেই এমবাপেদের সাপ্লাই লাইন বন্ধ। ফলে সেভাবে থ্রু পাস পাননি এমবাপেরা। গোলের সুযোগও তৈরি হয়নি। রড্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোর সহায়তায় স্পেনের মাঝমাঠের দুর্দান্ত পারফরমেন্স ফরাসিদের ম্যাচে কখনোই আধিপত্য বিস্তার করতে দেয়নি।

শুরু থেকে আধিপত্যা বিস্তার করতে না পেরে হতাশা গ্রাস করছিল ফরাসিদের। তার প্রমাণ ম্যাচের ৯ মিনিটেই ডি–বক্সের ঠিক বাইরে ওলমোর পায়ে পা মাড়িয়ে দিয়ে ফ্রান্সের মিডফিল্ডার রাবিওর হলুদ কার্ড দেখা। রেফারি ফ্রিকিকের নির্দেশ দিয়েচিলেন। বায়েনার শট ফ্রান্সের দেওয়ালে লেগে ফিরে আসে। ১৬ মিনিটে এমবাপে একটা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। তাংকে আটকে দেন পাউ কুবার্সি।


এরপর ম্যাচের ২২ মিনিটে এগিয়ে যায় স্পেন। মার্ক কুকুরেয়ার সেন্টার লুকাস ডিগনে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করতে গিয়ে ইয়ামালকে লাথি মারেন। সালভাদোরের রেফারি ইভান বার্টন পেনাল্টির নির্দেশ দেন। বাঁ পায়ের শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল। ৩১ মিনিটে দলের সেরা ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে আরও নড়বড়ে হয়ে যায় ফ্রান্স। সেই সুযোগে ৩৮ মিনিটে স্পেন ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। ফাবিয়ান রুইজকে ব্লক করে সে যাত্রায় ফ্রান্সকে রক্ষা করেন উপামেকানো। প্রথমার্ধের শেষদিকে ফ্রান্স কিছুটা মরিয়া হয়ে ওঠে। সমতা ফেরানোর সুযোগও এসেছিল। র‌্যাবিওর দুর্দান্ত থ্রু পেয়ে গিয়েছিলেন এমবাপে। স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন পরিস্থিতি সামাল দেন। 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও সেই স্পেনের আধিপত্য। দে লা ফুয়েন্তের কৌশলকে টেক্কা দিতে পারেননি ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ। ফলে স্প্যানিশ মিডফিল্ড আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৫৮ মিনিটে স্পেনের চূড়ান্ত আঘাত। ফ্রান্সের ডি বক্সের ঠিক বাইরে দানি ওলমোর সঙ্গে অসাধারণ ওয়ান–টু পাস খেলেন পেড্রো পোরো। এরপর বক্সে ঢুকে এগিয়ে যান এবং মাইনিয়ানকে পরাস্ত করে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্পেনের ফাইনালে খেলা কার্যত নিশ্চিত করেন। ৬১ মিনিটে রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে লামিলে ইয়ামাল ফ্রান্সের জালে বল জড়িয়েছিলেন। অফসাইডের জন্য সেই গোল বাতিল হয়। 

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় আসন্ন জেনে শেষদিকে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন কিলিয়ান এমবাপেও। তাঁর কয়েকটা প্রয়াস দারুণভাবে আটকে দেন স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন। ফ্রান্স যখনই আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিল ফাউল করে খেলার ছন্দ নষ্ট করার চেষ্টা করছিল স্পেন। ৮৭ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক পেয়েছিল ফ্রান্স। এমবাপের শট বারের অনেকটা ওপর দিয়ে উড়ে যায়। আরও একবার পরিস্কার হয়ে যায়, দিনটা এমবাপের ছিল না। স্পেনের কাছে ২–০ ব্যবধানে হেরে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেল ফ্রান্সের। অন্যদিকে, ২০১০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবার ফাইনালে স্পেন। 

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora