ভয়ঙ্কর তাপপ্রভাবে জর্জরিত ইউরোপ। তার মাঝেই ভয়াবহ দাবানলের কবলে স্পেন। দক্ষিণ স্পেনের আলমেরিয়া প্রদেশে বিদেশি নাগরিকদের বসবাসকারী একটা জনপদ ভয়াবহ দাবানলে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দাবানলে এখনও পর্যন্ত ১২ জন নিহত, ২৩ জন নিখোঁজ এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দাবানলে ৩২০০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত। চলমান তাপপ্রবাহ ও খরা ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আলমেরিয়া প্রদেশের সিয়েরা দে লস ফিলাব্রেস পর্বতমালার নিকটবর্তী একটা প্রত্যন্ত অঞ্চলে আগুন লাগে। এই এলাকায় বহু বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন। দাবানলের আগে স্পেন তীব্র দাবদাহের সম্মুখীন ছিল এবং খরার কারণে পরিস্থিতি আগে থেকেই ভয়াবহ ছিল। মনে করা হচ্ছে, এটা সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে স্পেনের অন্যতম মারাত্মক দাবানল।
তীব্র দাবদাহের কারণ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সকলকে বাড়ির বাইরে বার না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরামর্শ অমান্য করার কারণেই বেশিরভাগ মানুষ মারা গেছেন। অনেকে নিজেদের গাড়িতে করে পালিয়েছিলেন, আবার অনেকে পায়ে হেঁটে রওনা দেন। কেউ কেউ একটা শুকনো নদীখাত পেরিয়ে পালিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পথটি মরণফাঁদে পরিণত হয়। কর্তাদের মতে, নিহতদের মধ্যে ৪ জন ব্রিটিশ নাগরিক। ৭ জন নিজেদের গাড়ি ফেলে পায়ে হেঁটে পালানোর সময় মারা যান।
প্রায় ১৫০ জন দমকলকর্মী এবং স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিটের ২২০ জন সেনা আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এখনও পর্যন্ত আগুনে ৩২০০ হেক্টর (প্রায় ৭৯০০ একর) বনভূমি ও কৃষি জমি পুড়ে গেছে। এলাকাটির বন্ধুর ও শুষ্ক ভূখণ্ড, ঝোপঝাড়, শুকনো ঘাস এবং তীব্র বাতাস আগুন ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। চলমান তাপপ্রবাহ পুরো এলাকাটিকে বারুদের মতো দাহ্য করে তুলেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে ইউরোপ তীব্র তাপপ্রবাহে জর্জরিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে তাপমাত্রা বারবার ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। জুন মাসে রেকর্ড পরিমাণ তাপপ্রবাহে ১০০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের মতে, ইউরোপ বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণায়নশীল মহাদেশে পরিণত হয়েছে, যেখানে ১৯৮০–এর দশক থেকে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।
ফ্রান্সও তাপপ্রবাহ এবং দাবানলের হুমকির সঙ্গে লড়াই করছে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। দক্ষিণ ফ্রান্সে হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে যাওয়ায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। গত মাসে ফ্রান্সে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে উষ্ণতম জুন মাস রেকর্ড করা হয়েছে।