আবার সিরিয়ার হোটেলের বাইরে বিস্ফোরণ। অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে একটা হোটেলের বাইরে পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই হোটেলেই ছিলেন। এই বিস্ফোরণে ৬ জন নিহত এবং সিরীয় সরকারের পর্যটন মন্ত্রীসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চরমপন্থীরা যেখানে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিল। নিহতদের অধিকাংশই পুলিশ সদস্য, যারা ম্যাক্রোঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল–শারার আমন্ত্রণে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দামাস্কাসে এসেছেন। আল আরাবিয়া জানিয়েছে, ম্যাক্রোঁ যখন আল–শারার সঙ্গে দেখা করতে হোটেল থেকে বার হচ্ছিলেন, তখনই হোটেলের বাইরে একটা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হোটেলের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়।
দামাস্কাসের এক অভিজাত এলাকায় বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে। একই সঙ্গে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সে সময় ম্যাক্রোঁ বেসামরিক গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক সেরে হোটেল থেকে বার হচ্ছিলেন। হোটেলের বাইরে বিস্ফোরণ দুটি একটা গাড়ি ব্যবহার করে ঘটানো হয়। হোটেলের বাইরে একটা লাল গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়েছিল। তারপর সেটিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ফরাসি রাষ্ট্রপতি ভবন এখনও সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জানা গেছে যে বিস্ফোরণের বেশ কিছুক্ষণ পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো আল–শারার সঙ্গে দেখা করেছেন।
এদিকে, সিরীয় পুলিশ এই বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছে। আল–শারা সিরিয়ায় ক্ষমতায় আসার পর ওই প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনও নেতা সিরিয়া সফরে এসেছেন। দুই দিনের সফরে সিরিয়ায় এসেছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবারই ছিল তাঁর সফরের শেষ দিন।
বাশার আল–আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির প্রস্থানের পর সিরিয়ার নিরাপত্তা আর আল–শারা সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা আল–শারা সরকারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এছাড়াও, আলাওয়াইট ও কুর্দিরাও সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠন করেছে। গত বছরও ইজরায়েল আল-শারাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। এই উদ্দেশ্যে ইজরায়েল রাষ্ট্রপতির বাসভবনেও হামলা চালায়। তবে, আল-শারা অল্পের জন্য রক্ষা পান। প্রশ্ন উঠছে, দামাস্কাসে এই হামলাটি কারা চালিয়েছিল।