ভিশন ২০২৮ প্রকল্পের প্রধান, জোরে বোলিং কোচ ও স্পিন বোলিং কোচ বেছে নিয়েছে সিএবি। প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন জোরে বোলার তথা রাজ্যের মন্ত্রী অশোক দিন্দাকে। ভিশন ২০২৮ প্রকল্পের প্রধানের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি জোরে বোলিং কোচের দায়িত্বও সামলাবেন। আর স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উৎপল চ্যাটার্জিকে। উৎপল চ্যাটার্জিকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অশোক দিন্দাকে নিয়ে। অশোক দিন্দাকে ভিশন ২০২৮ প্রকল্পের প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া অন্য ইঙ্গিত বহন করছে।
উৎপল চ্যাটার্জি ও অশোক দিন্দার দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন উৎপল চ্যাটার্জির মতো অভিজ্ঞ প্রাক্তন ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে অশোক দিন্দার মতো জুনিয়র প্রাক্তনকে প্রধানের দায়িত্ব দেওয়াটা সত্যিই হাস্যকর সিদ্ধান্ত সিএবির। রাজ্যের বিজেপি সরকারের মন্ত্রী হওয়ার জন্যই কি অশোক দিন্দাকে এই বড় দায়িত্বে নিয়ে আসা হল? শুধু তাই নয় একজন মন্ত্রীকে কোচিং স্কিমের সঙ্গে যুক্ত করাটা কি সঠিক সিদ্ধান্ত? যে প্রকল্পে প্রতিভা তুলে নিয়ে আসার ব্যাপার রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে বাংলার ক্রিকেট মহলে।
সিএবি–র এই সিদ্ধান্ত সত্যিই হাস্যকর। রাজ্য সরকারের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ কোচিং প্রকল্পে দায়িত্ব দেওয়াটা একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়। অশোক দিন্দা তো এখন শুধু বিধায়ক নন, কৃষি বিপননের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলে তিনি ভিশন ২০২৮ প্রকল্পে কতটা সময় দিতে পারবেন? সবদিন কলকাতায় বসে থাকতে পারবেন না। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন তাঁকে নিজের বিধানসভা এলাকা ময়নায় যেতে হবে। তার ওপর রয়েছে মন্ত্রীর দায়িত্ব। যে কোনও সময় রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে ছুটতে হতে পারে।
মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে ক্রিকেট মাঠে কতটা সময় দিতে পারবেন অশোক দিন্দা? বলতে গেলে এই প্রকল্প বাংলার ক্রিকেটের সাপ্লাই লাইন। ভিশন ২০২০ থেকেই উঠে এসেছিলেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। ভিশন ২০২৮ প্রকল্পে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের তৈরি করা হয়। সেখানে কেন একজন অভিজ্ঞ কোচকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না? ওয়াকার ইউনিস, মুথাইয়া মুরলিথরন, টিএ শেখরের মতো কোচরা ভিশন ২০২০–র দায়িত্ব সামলেছেন। সেই জায়গায় অশোক দিন্দার মতো তরুণ কোচ কতটা সাফল্য এনে দিতে পারবেন, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তার ওপর আবার মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে।
ওয়াকিবহল মহলের মতে, সিএবি–র ভোট ব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই অশোক দিন্দাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আশা হয়েছে। সিএবি–র নির্বাচনে জেলার ভোট অনেকটাই প্রভাব ফেলে। আর রাজ্যে যে দল ক্ষমতায় থাকে, জেলার ভোটে তাদের প্রভাব বেশি। যেটা তৃণমূল সরকারের সময়ও দেখা গিয়েছিল। অশোক দিন্দাকে সামনে রেখে জেলার ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে চাইছে সিএবি–র বর্তমান শাসক গোষ্ঠী।
আগামী ২০ জুলাই সিএবি–র বিশেষ সাধারণ সভা। যুগ্ম–সচিব পদে নির্বাচন। বিরোধী শিবির শিবির প্রার্থী দেওয়ার আশঙ্কায় ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলি নেতৃত্বাধীন সিএবি। রাজ্যে পালা বদলের পর থেকেই যথেষ্ট চাপে রয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তার ওপর কিছুদিন আগে প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে চিঠি দিয়ে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রকে দুর্নীতি মুক্ত করার আবেদন জানিয়েছিলেন। অভিষেকের সঙ্গে আলোচনার বসার কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। আর তার পরপরই সৌরভ সটান হাজির হন মন্ত্রীর দফতরে। অনেকেই মনে করছেন, ক্রীড়ামন্ত্রীকে হাতে রাখার জন্যই তিনি তাঁর কাছে গিয়েছিলেন।