একদিনের ও টি২০ বিশ্বকাপের ফরম্যাটে ব্যাপক পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। এর মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে ১৪ দলের একদিনের বিশ্বকাপের জন্য তিন পর্যায়ের ফরম্যাট চালু করা, তেমনই রয়েছে টি২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বকে এলিমিনেটরসহ ‘সুপার ১০’ ফরম্যাটে সম্প্রসারণ করা। প্রধান নির্বাহী কমিটির সুপারিশের পর এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত আইসিসি–র বার্ষিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তগুলি চূড়ান্ত হয়েছে। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হল প্রতিযোগিতার মান উন্নত করে আরও অর্থবহ করে তোলা। পাশাপাশি ভারত–পাকিস্তানের মতো দেশগুলি যারা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না, তাদের মধ্যে আরও বেশি সংখ্যক ম্যাচ আয়োজন করা।
একদিনের বিশ্বকাপে ১৪টি দল অংশগ্রহণ করলেও প্রতিযোগিতার ফরম্যাট প্রচলিত রীতি থেকে সরে আসবে। ফাইনাল পর্যন্ত তিন পর্যায়ের ফরম্যাট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েচে আইসিসি। র্যাঙ্কিংয়ে থাকা নিচের তিনটি দল (১২, ১৩ এবং ১৪ নম্বর) প্রাথমিকভাবে ‘সুপার সিরিজ’ নামক প্রথম রাউন্ডে মুখোমুখি হবে। এই তিনটি দলের মধ্যে যারা শীর্ষস্থানে থাকবে, তারাই মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।
দ্বিতীয় রাউন্ডে ১২টি দল থাকবে। এই ১২টি দলকে ৬টি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং তারা ৩০টি ম্যাচ খেলবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ তিনটি দল এবং উভয় গ্রুপের পরবর্তী সেরা দল ‘সুপার ৭’ নামে একটা নতুন ৭ দলের রাউন্ড রবিন পর্বে উঠে আসবে। এই রাউন্ড রবিন লিগে মোট ২১ ম্যাচ অনুষ্ঠত হবে। ‘সুপার ৭’ পর্বের সেরা চারটি দল সেমিফাইনালে খেলবে। টুর্নামেন্টের প্রতিটি পর্যায়কে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য এই কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে।
একদিনের বিশ্বকাপের পাশাপাশি টি২০ বিশ্বকাপের ফরম্যাটেও বদল নিয়ে আসছে আইসিসি। ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে নতুন দেশগুলির পারফরমেন্সে উৎসাহিত হয়ে আইসিসি ২০ দলের এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্ব ৮ থেকে ১০ দলে সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথামিক গ্রুপ পর্বে এখন থেকে ৪টি করে দল নিয়ে ৫টি গ্রুপ থাকবে। এই পর্বে মোট ৩০টি ম্যাচ হবে। আগে ৫টি করে দলকে নিয়ে ৪টি গ্রুপে ভাগ করা হত। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দুটি দল ‘সুপার ১০’ পর্বে উন্নীত হবে। ‘সুপার ১০’ পর্বে ৫টি করে দল নিয়ে দুটি গ্রুপ করা হবে।
নকআউট পর্বেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। ‘সুপার ১০’–এ দুটি গ্রুপ থেকে শুধুমাত্র শীর্ষস্থানে থাকা দুটি দল সরাসরি সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী দল দুটি বাকি দুটি সেমিফাইনালে স্থান নিশ্চিত করার জন্য ‘এলিমিনেটর’ ম্যাচে মুখোমুখি হবে।
আইসিসি বোর্ড ২০২৮ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য অন্যান্য দলগুলির যোগ্যতা অর্জনের রূপরেখাও তৈরি করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়েছিল। এবার স্কটল্যান্ডকে সরাসরি ইউরোপ আঞ্চলিক ফাইনালে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে যে দলগুলি সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, তারা গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে অংশ নেবে। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা ৮টি দল। এর মধ্যে রয়েছে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ থেকে দুটি করে এবং আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়া•প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটা করে দল। গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে প্রতিটি অঞ্চল থেকে শীর্ষস্থানীয় দল এবং সামগ্রিকভাবে পরবর্তী সেরা তিনটি দল ২০২৮ টি২০ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করবে।
উল্লেখ্য যে, প্রধান নির্বাহী কমিটির সুপারিশের পর আইসিসি এই পরিবর্তনগুলি অনুমোদন করলেও, চলতি বছরের নভেম্বরে আইসিসি–র অর্থ ও বাণিজ্যিক বিষয়ক কমিটির পর্যালোচনার পরেই এই নতুন ফরম্যাট চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে।