ট্রেন্ডিং

King Charles will not reside at Buckingham Palace

১৮৮ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ভেঙে চুরমার, আর বাকিংহাম প্যালেসে থাকবেন না ব্রিটেনের রাজা

১৮৩৭ সাল থেকে বাকিংহাম প্যালেস ব্রিটেনের রাজা বা রানীর লন্ডনের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাজা কিংবা রানীরা এই প্যালেসেই বসবাস করে আসছিলেন। এটাই ছিল ব্রিটেনের রাজপরিবারের ঐতিহ্য। অবশেষে ১৮৮ বছরের সেই পুরনো ঐতিহ্য ভেঙে চুরমার। ব্রিটেনের রাজা চার্লস সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি আর বাকিংহাম প্যালেসে থাকবেন না। তিনি তাঁর বাসভবন নিকটবর্তী ক্ল্যারেন্স হাউসেই থাকবেন।

আর বাকিংহাম প্যালেসে ফিরবেন না রাজা চার্লস ও রানী ক্যামিলা।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০২৬
Share on:

১৮৩৭ সাল থেকে বাকিংহাম প্যালেস ব্রিটেনের রাজা বা রানীর লন্ডনের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাজা কিংবা রানীরা এই প্যালেসেই বসবাস করে আসছিলেন। এটাই ছিল ব্রিটেনের রাজপরিবারের ঐতিহ্য। অবশেষে ১৮৮ বছরের সেই পুরনো ঐতিহ্য ভেঙে চুরমার। ব্রিটেনের রাজা চার্লস সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি আর বাকিংহাম প্যালেসে থাকবেন না। তিনি তাঁর বাসভবন নিকটবর্তী ক্ল্যারেন্স হাউসেই থাকবেন। 

রানী ভিক্টোরিয়ার পর এই প্রথম কোনও ব্রিটিশ রাজা বা রানী বাকিংহাম প্যালেস ছাড়া অন্য কোনও রাজকীয় বাসভবনকে তাঁর স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বাকিংহাম প্যালেস রাজপরিবারের প্রধান প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবেই থাকবে। ১০ বছর ধরে বাকিংহাম প্যালেসের সংস্কারের কাজ চলছে। সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৬৯ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৪,৩০০ কোটি টাকা) খরচ হচ্ছে। আগামী বছরের মার্চ মাসে এই সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কথা। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরেও রাজা চার্লস ও রানী ক্যামিলা আর সেখানে থাকবেন না।

১৮৩৭ সাল থেকে ব্রিটেনের রাজা বা রানীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকা বাকিংহাম প্যালেস এখন থেকে রাজপরিবারের প্রধান প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বাকিংহাম প্যালেসে রাজার না থাকার সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হল, প্যালেসকে আগের চেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য জনসাধারণের জন্য খোলা রাখা। বর্তমানে, পর্যটকরা প্রতি গ্রীষ্মে প্রাসাদের স্টেট রুমগুলো পরিদর্শন করতে পারেন। রাজা যদি সেখানে থাকেন, তাহলে নিরাপত্তার কারণে অনেক এলাকা বন্ধ রাখতে হবে। রাজার অনুপস্থিতি আরও বেশি মানুষকে প্যালেস পরিদর্শনে আসার সুযোগ করে দেবে, পর্যটন থেকে আয় বাড়বে। রাজা চার্লস এবং রানী ক্যামিলা ২০০৫ সালে বিয়ের পর থেকে ক্ল্যারেন্স হাউসে বসবাস করে আসছেন। এই ভবনটি সেন্ট জেমস প্রাসাদের সংলগ্ন। আগে এটা রানী বাসস্থান ছিল।


রাজা চার্লস ও রানী ক্যামিলার বয়স এখন ৭০ বছরের বেশি। তাঁরা তাঁদের কর্মীদের নিয়ে আবার বাড়ি বদলানোর ঝামেলা চান না। তবে, তাঁরা বাকিংহাম প্যালেস থেকেই তাঁদের বেশিরভাগ রাজকীয় দায়িত্ব পালন করে যাবেন। রাষ্ট্রীয় ভোজসভা, গার্ডেন পার্টি, বিদেশি নেতা ও নতুন রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক যথারীতি বাকিংহাম প্যালেসেই অনুষ্ঠিত হবে। কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বা প্রয়োজনে থাকার জন্য প্রাসাদে তাঁদের কিছু ব্যক্তিগত কক্ষও থাকবে। রাজপরিবারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, রাজা চার্লস বাকিংহাম প্যালেস খুব পছন্দ করেন। আগের মতোই এই প্রাসাদটি রাজকীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানগুলোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে থাকবে।

২০১৭ সালে বাকিংহাম প্যালেসের মেরামতের জন্য সার্বভৌম অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছিল। মেরামত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর, ২০২৭–২৮ সালে এই অর্থের পরিমাণ ১৩৭.৯ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে কমে ৯৯.৯ মিলিয়ন পাউন্ড হবে। এই অর্থ অন্যান্য রাজকীয় প্রাসাদ মেরামত, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, শক্তি-সাশ্রয়ী হিটিং সিস্টেম স্থাপন এবং উইন্ডসর ক্যাসেলের পুরোনো বয়লার প্রতিস্থাপনের কাজেও ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora