যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও গাজার ওপর ইজরায়েলের হামলা অব্যাহত। রবিবার গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলি হামলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ অন্তত ৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১০৪০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইজরায়েল।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, প্রথম হামলাটি উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় একদল নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এই হামলায় ২ জন নিহত এবং একজন আহত হন। দক্ষিণ গাজায় আরেকটি ইজরায়েলি হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজায় ইজরায়েলি সেনাবাহিনী হঠাৎই ট্যাঙ্কার থেকে গোলাবর্ষণ শুরু করে। ট্যাঙ্কার থেকে ছিটকে আসা প্স্লিন্টারের আঘাতে আইলিন আল–ফারা নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী মারা যায়।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও কেন এই ধরণের হামলা চালানো হয়েছে, সেই ব্যাপারে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে বলেছে যে, হামলাগুলি একজন হামাস সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। যদিও তারা এই ব্যাপারে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছে, রবিবার গাজা জুড়ে ভারী ট্যাঙ্ক থেকে গোলাবর্ষণ হয়েছে এবং মাথার উপর এক ধরনের চালকবিহীন আকাশযান কোয়াডকপ্টার উড়তে দেখা গেছে।
অক্টোবরে ইজরায়েল ও হামাস জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে গাজায় তীব্র লড়াই অনেকটাই কমে এসেছে। হামাসরা আর ইজরায়েল বাহিনীর ওপর নতুন করে কোনও হামলা চালায়নি। কিন্তু ইজরায়েল একের পর এক হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা প্রায় প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর খবর দিচ্ছে। ইজরায়েল জানিয়েছে, তারা হামাস ও অন্যান্য হুমকি সৃষ্টিকারী জঙ্গিদের এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে লক্ষ্যবস্তু করে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, হামাস নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইজরায়েল গাজায় ১০৪০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। মন্ত্রণালয়টি হতাহতের বিস্তারিত তথ্য রেকর্ড করে রাখে, যা জাতিসংঘের সংস্থা এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। এতে বেসামরিক ও জঙ্গিদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হয় না। তবে বলা হয়েছে যে, মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই মহিলা ও শিশু।
অন্যদিকে, ইজরায়েলের দাবি, যুদ্ধবিরতির পর থেকে তাদের পাঁচজন সৈন্য নিহত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে এক হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়, যাতে প্রায় ১২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ইজরায়েলি প্রতিশোধমূলক হামলায় ৭৩০৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।