স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটা ছাড়াও প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডরেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ইউরোপীয়–ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) অনুসারে, ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৭.৪ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১১৫ কিলোমিটার গভীরে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা এর প্রাথমিক মাত্রা ৬.৭ বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে সান হোসে দেল পালমারের কাছে। কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.৪ বলে জানিয়েছে এবং বলেছে যে এটি ভূপৃষ্ঠের ৭৯ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হেনেছে।
ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছনো এবং তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে যে, এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। ফলস্বরূপ, উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং আহতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশ কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্স, ইউক্রেন, ইতালি, ইকুয়েডর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইকুয়েডর তাদের নিজস্ব বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া আজিন বলেছেন, তাঁর দেশ কলম্বিয়ার পাশে আছে। তিনি কলম্বিয়াকে সাহায্য করার জন্য ৪৭ জন উদ্ধারকর্মী, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সম্বলিত একটা ইউএসএআর দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এই দলটির সাত দিন ধরে অভিযান চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। ইকুয়েডর জানিয়েছে, কলম্বিয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী তারা এই দলটি পাঠাতে প্রস্তুত।
কলম্বিয়াকে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর কারণ হল এই অঞ্চলের টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া। দেশটি বেশ কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের সীমানা এবং প্রধান ফল্ট সিস্টেমের কাছাকাছি অবস্থিত। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা অনুসারে, এখানে এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি বিধ্বংসী ভূমিকম্প ঘটেছে। আন্দীয় অঞ্চল, ইস্টার্ন কর্ডিলেরার পূর্ব পাদদেশ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এর আগে কলম্বিয়া বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছে। সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ার তুমাকোর কাছে আঘাত হেনেছিল। এর মাত্রা ছিল ৮ এবং এটা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছিল। সোমবারের ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম। আবহাওয়া সংস্থা এবং ইউএসজিএস ক্রমাগত আফটারশকগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।