বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বরাবরই মতপার্থক্য রয়েছে। তবে এবার ওয়াশিংটনে দেখা গেল অন্য ছবি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয় হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আগে মার্কিন–চীন সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে বন্ধন আরও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দিয়েছেন দুই রাষ্ট্রনেতা।
মার্কিন–চীন সম্পর্ক নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদিও দুটি দেশ ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে, তবে আমেরিকান ও চীনা জনগণের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় রয়েছে। তিনি বলেন, উভয় দেশের নেতা হিসেবে তাঁরা এই সম্পর্ককে এমন একটা দিকে চালিত করতে পারেন, যা আগামী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।
শি জিনপিংও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেছেন। চীনের প্রেসিডেন্টও আলোচনার সুর ইতিবাচক রেখেছিলেন। তিনি মার্কিন–চীন বন্ধুত্বকে এক অবিরাম প্রবহমান নদীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘ইতিহাস কখনও থামে না। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে এবং যৌথভাবে তাদের সম্পর্কের একটা নতুন অধ্যায় রচনার আহ্বান জানান। জিনপিং বলেন, ‘এই সম্পর্কের ইতিবাচক সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে উভয় দেশের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।’
এদিকে, জিনপিং আগামী ৫ বছরে এক লক্ষ তরুণ আমেরিকানকে পড়াশোনা এবং শিক্ষা বিনিময়ের জন্য চীনে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর আগে, ২০২৩ সালে ৫০ হাজার তরুণকে আমন্ত্রণ জানানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ হয়েছে। ট্রাম্প ও জিনপিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার চীন–মার্কিন সহযোগিতা এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন।
জিনপিং বলেন, ‘২০২৩ সালে চীন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৫০ হাজার তরুণ আমেরিকানকে চীনে আমন্ত্রণ জানানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। এই বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এরপর, চীন এখন পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১ লক্ষ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চীন-মার্কিন সম্পর্কের আশা উভয় দেশের জনগণের ওপর নির্ভর করে এবং এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই রয়েছে। ১ লক্ষ তরুণ আমেরিকানকে চীনে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’
তাঁর ভাষণে জিনপিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সে সময় চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। চীনের জনগণ সেই ইতিহাস কখনো ভোলেনি এবং আমেরিকার জনগণও সেই সময়কালকে স্মরণ করে।’ ট্রাম্পও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং সুপার ইন্টেলিজেন্সের মতো বিষয়ে উভয় দেশের নেওয়া সিদ্ধান্ত আগামী দশকগুলোতে শান্তি ও সমৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। উভয় দেশই তাদের অভিন্ন স্বার্থের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।’
যদিও ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের বিবৃতিতে একটা স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বাণিজ্য, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মতো বিষয়গুলি তাদের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি। হোয়াইট হাউসের এই নৈশভোজ এবং উভয় নেতার ইতিবাচক ভাষা, আলোচনা ও সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। কিন্তু অতীতের সমস্ত মতপার্থক্য দূর হয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনও আসেনি।