প্রায় ৬ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর ব্রিটেনে ফিরে এসেছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। ব্রিটেনে ফেরার পর রাজপরিবারে প্রিন্স হ্যারির ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। অবশেষে যাবতীয় জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। রাজা তৃতীয় চার্লস স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ডিউক ও ডাচেস অফ সাসেক্স রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য নন এবং তাঁরা রাজপরিবারের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করবেন না। কোনও দায়িত্বও পালন করবেন না। এর অর্থ হল, ব্রিটেনে ফিরে আসা সত্ত্বেও তাঁদের রাজকীয় ভূমিকা অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজা চার্লস এই ব্যাপারে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে দাতব্য ও অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
সিএনএন–এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্যতম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড চেম্বারলেন সোমবার রাজার পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হ্যারির দলকেও একটা চিঠি পাঠিয়েছেন। এই চিঠিতে দম্পতিটির বর্তমান অবস্থা সংক্রান্ত সমস্ত অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে যে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে হ্যারি ও মেগান সার্বভৌম শাসকের প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর পর থেকে তাঁরা ব্রিটিশ রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে আর থাকেননি। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সাসেক্স দম্পতির বর্তমান অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি এবং এই মর্যাদাকে সম্পূর্ণরূপে সম্মান করা হবে।
রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে এসে ২০২০ সালে ব্রিটেন ছেড়ে উত্তর আমেরিকায় চলে যান প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। এরপর থেকে রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর সামনে আসতে থাকে। তাঁরা দুজনেই প্রকাশ্য বিবৃতি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে রাজপরিবার সম্পর্কিত নিজেদের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন। গত মাসে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল দুজনেই তাঁদের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে ব্রিটেনে ফিরেছেন। দুই সন্তানকেই ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। তাঁদের ফেরার পর প্রশ্ন উঠেছিল, হ্যারি ও মেগান আবার রাজকীয় অনুষ্ঠানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবেন কি না। এখন রাজপ্রাসাদের সর্বশেষ চিঠি এই জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়েছে।
রাজপ্রাসাদ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হ্যারি ও মেগানের দাতব্য ও জনহিতকর কাজ তাদের ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা দুজনেই সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাঁদের ব্যবসায়িক ও দাতব্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু এই কাজগুলো রাজপরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে গণ্য হবে না। হ্যারি ও মেগান সম্পর্কিত প্রশাসনিক এবং অন্যান্য চিঠিপত্রও রাজপরিবারের পরিবর্তে তাঁদের নিজস্ব দপ্তরে পাঠানো হবে। তাঁদের দপ্তর রাজপরিবার থেকে আলাদাভাবে পরিচালিত হতে থাকবে। সুতরাং, ব্রিটেনে ফিরে আসা সত্ত্বেও, হ্যারি ও মেগানের জন্য রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক কাজে ফেরার পথ বর্তমানে বন্ধ।