বয়স ভাঁড়ানো ও ভুয়ো নথি জমা দেওয়ার অভিযোগে বাংলার ক্রিকেটার তথা ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সদস্য রোহিত যাদবকে ২ বছরের জন্য নির্বাসিত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ২০২৭–২০২৮ মরশুম পর্যন্ত কোনও ধরণের ক্রিকেটে খেলতে পারবেন না উদীয়মান এই লেগস্পিনার। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন রোহিত। বয়স সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এবছর জুলাই মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলে ছিলেন রোহিত যাদব। তখন কিন্তু তাঁর বয়স ভাঁড়ানো বিষয়টি সামনে আসেনি। সিএবি যখন নিয়মিত নথি যাচাইয়ের কাজ করছিল, তখনই রোহিতের বয়স ভাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে। তাঁর নথিপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাঁর বয়সে ২৭ মাসের গড়মিল ধরা পড়েছে। বারবার আধার কার্ড আপডেট করার সময় জন্মতারিখ বদল করেছেন রোহিত।
রোহিতের নথিপত্রে বয়সের অসঙ্গতি সামনে আসার পর সিএবি তাঁকে নির্বাসিত করে। এরপরই গোটা ঘটনাটি সিএবি–র পক্ষ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে জানানো হয়। এরপরই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অনূর্ধ্ব ১৯ দল থেকে রোহিতকে বাদ দেয়। ২০২৪–২০২৫ মরশুম থেকে অনূর্ধ্ব ১৯ ও অনূর্ধ্ব ২৩ ক্রিকেটে তাঁর পারফরমেন্স বিবেচনা করা হবে না। এছাড়া ২০২৭–২০২৮ মরশুম পর্যন্ত তিনি কোনও ধরণের ক্রিকেটে অংশগ্রহন করতে পারবেন না।
উত্তরপ্রদেশের ছেলে রোহিত বাংলায় এসে ক্লাব ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। সেখান থেকেই বাংলার বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পান। বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগেও খেলেছেন। এতদিন ধরে নথিতে অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রোহিত যাদব বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলে গেলেন? কেন বিষয়টি আগে ধরা পড়ল না? সিএবি কর্তাদের দিকে আঙুল উঠছে। যে কর্তারা এর জন্য দায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে রোহিত যাদবকেই বলির পাঁঠা করা হয়েছে।
শুধু রোহিত যাদব নন, বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে ৬৫ জন ক্রিকেটারকে নির্বাসিত করেছে সিএবি। এই তালিকায় রয়েছেন অনূর্ধ্ব১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য রবি কুমার, বাংলার হয়ে রনজি খেলা বিশাল ভাটি, প্রভাত মৌর্যর মতো ক্রিকেটার। ঘটনাচক্রে, নির্বাসিত হওয়া ক্রিকেটাররা অধিকাংশই ভিন রাজ্যের। তবে অনেক স্থানীয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধেও বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।