ট্রেন্ডিং

Durand Cup 2026

‌এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত মোহনবাগান, ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপে চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল

লাল–হলুদ তাঁবুতে শেষবার ডুরান্ড কাপ ঢুকেছিল ২০০৪ সালে। মাঝে কেটে গেছে ২২টা বছর। ডুরান্ড কাপ ঘরে আসেনি। ক্ষুধার জ্বালা যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, তার সাক্ষী থাকল রবিবাসরীয় যুবভারতী। লাল–হলুদ মশালের তীব্র আগুনে পুড়ে ছারখার সাধের বাগান। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ৪–১ ব্যবধানে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছর পর আবার। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল। দুরন্ত হ্যাটট্রিক এডমুন্ডের।

হ্যাটট্রিকের পর এডমুন্ড। অভিনন্দন বিপিনের।

নাসরিন সুলতানা

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০২৬
Share on:

লাল–হলুদ তাঁবুতে শেষবার ডুরান্ড কাপ ঢুকেছিল ২০০৪ সালে। মাঝে কেটে গেছে ২২টা বছর। ডুরান্ড কাপ ঘরে আসেনি। ক্ষুধার জ্বালা যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, তার সাক্ষী থাকল রবিবাসরীয় যুবভারতী। লাল–হলুদ মশালের তীব্র আগুনে পুড়ে ছারখার সাধের বাগান। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ৪–১ ব্যবধানে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছর পর আবার। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল। দুরন্ত হ্যাটট্রিক এডমুন্ডের। একটা গোল বিপিন সিংয়ের। মোহনবাগানের সান্তনা মনবীরের গোল।

ডার্বি মানেই অন্যরকম উত্তেজনা। কিন্তু ম্যাচ যে এইরকম নাটকীয় পর্যায়ে পৌঁছবে, সত্যিই কল্পনার অতীত ছিল। শুরু থেকেই মোহনবাগানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল লাল–হলুদ ব্রিগেড। ইস্টবেঙ্গলকে দেখে মনে হচ্ছিল খোঁচা খাওয়া বাঘ। গ্রুপ লিগের প্রথম ডার্বিতে হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া। ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের বাইরে থেকে পাস বাড়িয়েছিলেন মোহাম্মদ রশিদ। কাট করে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন বিপিন সিং। পরের মিনিটেই দুরন্ত আক্রমণ থেকে ২–০ করেন এডমুন্ড।

১১ মিনিটের মধ্যে ২ গোলে পিছিয়ে পরেও দমে যায়নি মোহনবাগান। আক্রমণ তুলে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিল। ২০ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে ব্যবধান কমানোর সুযোগও এসেছিল মোহনবাগানের সামনে। ডি বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক পেয়েছিল মোহনবাগান। লিস্টন কোলাসোর ডান পায়ের শট গোলে ঢোকার মুখে ফিস্ট করে বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিল। ২২ মিনিটেই ডুরান্ড ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত। রশিদের কাছ থেকে বল পেয়ে ৬ গজ বক্সের মধ্যে ঢুকে রাহুল ভেকেকে মাটি ধরিয়ে বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথকে ড্রিবল করে ডানপায়ের শটে ৩–০ করেন এডমুন্ড। 


২৮ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ এসেছিল জেমি ম্যাকলারেনের সামনে। সুবিধাজনক জায়গা থেকেও বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। ৩০ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে বল পেয়ে আবার বাইরে মারেন ম্যাকলারেন। ৪ মিনিট পরই মনবীর সিংয়ের গোলে ব্যবধান কমায় মোহনবাগান। সায়নের পাস থেকে গোল করেন মনবীর। ৩৯ মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন ম্যাকলারেন। পেনাল্টি বক্স থেকে বেরিয়ে এসে কোনমতে বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন।

৪৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এডমুন্ড। মোহনবাগান বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। মোহাম্মদ রশিদ একেবারে বক্সের বাঁদিকে ভাসিয়ে দেন। জয় গুপ্তা ৬ গজ বক্সে পাস বাড়ান। জটলার মধ্যে থেকে ছিটকে বেরিয়ে গিয়ে বল জালে পাঠান এডমুন্ড। বাইচুং, কিয়ান নাসিরির পর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন এডমুন্ড। বাইচুংয়ের পা থেকে হ্যাটট্রিক এসেছিল ৯৭ ফেডারেশন কাপে। ম্যাচের ফল ছিল ইস্টবেঙ্গলের অনুকূলে ৪-–১। ২০২২ সালে আইএসএলের ম্যাচে কিয়ান নাসিরির হ্যাটট্রিকে মোহনবাগান জিতেছিল ৩-–১ গোলে। তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক ২০২৬ ডুরান্ডের ফাইনাল ডার্বিতে। এডমুন্ড হ্যাটট্রিক করলেও এদিন ডার্বিতে আলাদাভাবে নজর করলেন মোহাম্মদ রশিদ। মাঝমাঠে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিলেন।

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সামির জেলকোভিচের জায়গায় মিগুয়েলকে মাঠে নামান মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস ডিমপেরিস। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ এসেছিল মোহনবাগানের সামনে। বক্সের বাইরে ডানদিকে ফ্রিকিক পেয়েছিল মোহনবাগান। লিস্টনের ফ্রিকিক গোলে ঢোকার মুখে ফিস্ট করে বাঁচান প্রভসুখন গিল। ৬১ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন মোহনবাগান কোচ। মাঠে নামান দীপক টাংরি, কিয়ান নাসিরি এবং সাহাল আব্দুল সামাদকে। ৬৫ মিনিটে ৫-১ করার সুযোগ এসেছিল বিপিন সিংয়ের সামনে। তাঁর শট কোনও রকমে বাঁচান মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। একটা সময় মনে হচ্ছিল ১৯৭৫–এর শিল্ডের পর আবার ৫ গোল পেয়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের সংযুক্তি সময়ে রোহিত দানুর পাস ৬ গজ বক্সে পা ছোঁয়াতে পারেননি মোহাম্মদ রশিদ। ২০০৪ সালে দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামে শেষবার ডুরান্ড জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছর পর এবার কলকাতায়। এই নিয়ে ১৭ বার ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল। ধরে ফেলল মোহনবাগানকে।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora