কুয়েতের আল আরবি কলকাতায় পৌঁছনোর পর থেকেই জল্পনা চলছিল, শক্তিশালী এই দলের বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২–র যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে কত গোল হজম করবে ইস্টবেঙ্গল। লাল–হলুদ ব্রিগেড কি পারবে মান বাঁচাতে? বিদেশি দলের বিরুদ্ধে ভাল খেলার ঐতিহ্য রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। অতীতে বিদেশি দলের বিরুদ্ধে সাফল্যও রয়েছে ঈর্ষানীয়। বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেই ঐতিহ্যের কথা আবার মনে করিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। ভাঙাচোরা দল নিয়ে দুরন্ত লড়াই। পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। বিদেশি সমৃদ্ধ শক্তিশালী কুয়েতের আল আরবিকে ৪–১ ব্যবধানে উড়িয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২–তে জায়গা করে নিল ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোলগুলি করেন জয় গুপ্তা, মহম্মদ রশিদ, ডেভিড লালহানসাঙ্গা এবং রোহিত দানু।
দুই ব্রাজিলিয়ানসহ ৬ জন বিদেশি নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলতে এসেছিল আল আরবি। ভারতে আসার আগে তুরস্কে অনুশীলন, মিশরের শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলে নিজেদের শক্তি যাচাই করে নেওয়া। আর ইস্টবেঙ্গল? না আছে বিদেশি স্ট্রাইকার, না আছে ডিফেন্ডার। মাঝমাঠে শুধু দুই বিদেশি মহম্মদ রশিদ ও দানি র্যামিরেজ। কার্ডের জন্য লালচুংনুঙ্গা না থাকায় রক্ষণ আরও ভঙ্গুর। আক্রমণভাগ বিদেশিহীন। হ্যাঁ, শক্তিশালী দল না থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের ছিল বিদেশি দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার ঐতিহ্য। আর তা দিয়েই বাজিমাত আন্তেনিও লোপেজ হাবাসের।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দেশের ক্লাবের বিরুদ্ধে অনেক সমস্যা নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। হাতে মাত্র আড়াইখানা বিদেশি। পুরো ফিট মহম্মদ রশিদ ও দানি র্যামিরেজ এবং আধাফিট ইকোনোমিডিস। আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ভরসা করেছিলেন স্বদেশি ব্রিগেডের ওপর। স্বদেশিদের নিয়েই আল আরবিকে হারানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন লাল–হলুদ কোচ। হাবাস জানতেন শক্তির বিচারে আল আরবির সঙ্গে পেরে উঠবেন না। তাই ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ের ওপর জোর দিয়েছিলেন। নিখুঁত রণকৌশলেই বাজিমাত হাবাসের।
শক্তিশালী বিদেশি দলোএর কথা না ভেবে সীমিত শক্তি নিয়েই শুরু থেকেই আক্রমণের রাস্তা বেছে নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৫ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মহম্মদ রশিদের নেওয়া শট কোনও রকমে বাঁচান আল আরবির গোলকিপার সুলেইমান আব্দুলগফর। ৭ মিনিট পর আবার জেসিন টিকে–র সট আটকান। ১৯ মিনিটে প্রথম পরীক্ষায় পড়তে হয় ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিলকে। খালিদ আলমারশেদের শট বাঁচান তিনি। তবে ২৪ মিনিটে দলকে প্রা বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন প্রভসুখন। মালেকোর শট দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে গলিয়ে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্ঠায় গোললাইন থেকে বাঁচান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার সুযোগ এসে গিয়েছিল আল আরবির সামনে। আনায়োর প্রয়াস কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান প্রভসুখন। ১ মিনিট পর দিনের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিপিন সিং। ক্ষমার অযোগ্য ভুল। এরপরই এগিয়ে যায় আল আরবি। ৭৬ মিনিটে মালেকোকে জার্সি ধরে টেনে ফেলে দিয়ে আল আরবিকে পেনাল্টি উপহার দেন সন্দীপ মাণ্ডি। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আনায়ো। এরপরই আল আরবির রক্ষণে চাপ বাড়াতে জেসিনকে তুলে ক্রিস ইকোনোমিডিসকে নামান হাবাস। ৮৯ মিনিটে বিপিন সিংয়ের পরিবর্তে রোহিত দানুকে নিয়ে আসেন। এরপরই সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। মহম্মদ রশিদের ফ্রিকিক থেকে হেডে গোল করেন জয় গুপ্তা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ১০৮ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার জেনারেল মহম্মদ রশিদ। রোহিত দানুর সিচ করা বল মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুরন্ত শটে গোল করেন এই প্যালেস্তাইন মিডফিল্ডার। ১১৩ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন হাবাসের। চোট পাওয়া রশিদের জায়গায় রোহিত কুমার ও এডমুন্ডের পরিবর্তে ডেভিডকে নামান। মাঠে নামার ৪ মিনিটের মধ্যেই দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ইস্টবেঙ্গলের জয় নিশ্চিত করেন ডেভিড। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে রোহিত দানুর গোলে ৪–১। বিদেশি দলকে আবার উড়িয়ে গৌরবগাথা লিখল ইস্টবেঙ্গল, যা বরাবরের ঐতিহ্য লাল–হলুদের।