হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলায় এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় ১৪ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত। হরিপুরধরে একটা বেসরকারি বাস ৫০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ৮ যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়। প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
শুক্রবার বিকেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার কবলে পড়া বাসটি সিমলা থেকে রাজগড় হয়ে কুপভি যাচ্ছিল। নাহান থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দূরে সিরমৌর জেলার শ্রী রেণুকাজি বিধানসভা কেন্দ্রের হরিপুরধরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। জানা গেছে, রাস্তায় তুষারপাতের কারণে বাসটি পিছলে যায়। দুর্ঘটনায় জিৎ কোচ বাসটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। ছাদ এবং টায়ার আলাদা হয়ে যায়। নিহতরা সকলেই সিরমৌর এবং সিমলা জেলার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ও স্থানীয় মানুষজন প্রথমে ছুটে আসে। তারাই প্রথমে উদ্ধার কার্যে হাত লাগান। দুর্ঘটনাগ্রস্থ বাস থেকে ৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে আরো ৬ জন মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত ১৭ জন নাহান মেডিকেল কলেজে, রাজগড়ে ১৮ জন, সোলানে ১৫ জন, এবং একজনকে পিজিআই চণ্ডীগড় এবং একজনকে আইজিএমসি সিমলায় রেফার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘বাসটি সিমলা জেলার কুপভি থেকে সোলানের দিকে যাচ্ছিল। ঘন কুয়াশার জন্য দৃশ্যমানতা কম ছিল। যার বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তারাই পুলিশকেও খবর দেন। সাংগ্রা, রাজগড় এবং নওরাধর থেকে পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজে হাত লাগায়।’
সিরমৌরের পুলিশ সুপার নিশ্চিন্ত সিং নেগিও পরে ঘটনাস্থলে হাজির হন। তিনি হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধার কার্য শুরু করে। পরে উদ্ধারকারী দল এসে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এই ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি যে তিনি এই কঠিন সময়ে শোকাহত পরিবারগুলিকে শক্তি দিন।’
হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এক্স–এ এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘দুর্ঘটনার খবরে আমি গভীরভাবে ব্যথিত। দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাই এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার পূর্ণ সহানুভূতি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘জেলা প্রশাসনকে নিহতদের পরিবারকে সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে পূর্ণ সহায়তা প্রদান করতে হবে।’
এদিকে, সরকার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে। ২০০৮ সালে কেনা এই বেসরকারি বাসের ফিটনেসের মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর পারমিট ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৈধ ছিল। পুলিশের মতে, শুক্রবার বিকেলে বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ছাদ ভেঙে যায় এবং উল্টে পড়ে যায়।