বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের তীব্র নিন্দা করলেন বিখ্যাত গীতিকার, চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার।
পাটনায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে ডাঃ নুসরাত পারভীনের হিজাব খুলে ফেলার জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের তীব্র নিন্দা করলেন বিখ্যাত গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও কবি জাভেদ আখতার। নীতীশ কুমারের এই আচরণকে ‘অশ্লীল’ এবং ‘পুরুষতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। হিজাব এবং পর্দার অনুশীলনের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধিতা ব্যক্ত করে আখতার যুক্তি দেন যে, জোর করে এটা খুলে ফেলা ব্যক্তিগত মর্যাদাহানির লঙ্ঘন। তিনি বিজেপি মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের এই ঘটনা নিয়ে সাফাই দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেছেন।
ইন্ডিয়া টুডে–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘যদি নীতীশ কুমারের মধ্যে যদি সামান্যতমও ভদ্রতা থাকে তাহলে তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি একজন মহিলার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তবে আমার সন্দেহ আছে নীতীশ কুমারের শালীনতা বোধ নিয়ে।’ গত সপ্তাহে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এক অনুষ্ঠানে আয়ুষ ডাক্তারদের নিয়োগপত্র দেওয়ার সময় ডাঃ নুসরাত পারভীনের হিজাব খুলে ফেলার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
জাভেদ আখতার আরও বলেন যে, ‘কেউ যদি ধর্মে বিশ্বাস না করে বা নাস্তিক হয়, তবুও তাদের অন্যদের অসম্মান করার অধিকার নেই। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী জানতেন যে, তিনি এই কাজ করে পার পেয়ে যাবেন। তিনি একজন হিন্দু মহিলার ঘোমটা টেনে তোলার সাহস দেখাতেন না।হয়তো আমি নাস্তিক, আমি ধর্মে বিশ্বাস করি না। তাহলে এর অর্থ কি মন্দির, মসজিদ এবং গির্জা থেকে লোকদের বের করে আনা? এটা কি করা উচিত? আপনি এর বিরোধিতা করতে পারেন, আপনার যুক্তি দিতে পারেন। কিন্তু আপনি এটা করতে পারেন না। বিশেষ করে একজন মহিলার সঙ্গে, তাও আবার একজন মুসলিম মহিলা।’
জাভেদ আখতার মনে করেন, নীতীশ কুমারের এই আচরম ‘পুরুষতান্ত্রিক, উগ্রবাদী এবং শক্তিশালী’ মানসিকতা থেকে এসেছে, যা ‘আমি সকলের রাজা’–র বিষয়টাকে তুলে ধরে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি বলেন, ‘ভারতে এখনও এমন অনেক অঞ্চল রয়েছে যেখানে হিন্দু মহিলারা ঘোঙাট পরেন। আপনি কি তাদের ঘোঙাট টেনে তুলে দোবেন? আপনি কীভাবে এটা করতে পারেন? কেউ কি এটা করতে পারে?’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং নীতীশ কুমারের এই কাজকে সমর্থন করেছিলেন। তাঁকে তীব্র আক্রমম করেছেন জাভেদ আখতার। গিরিরাজকে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি গিরিরাজ সিংয়ের প্রশংসা করি। এই বিশেষ বক্তব্যের জন্য নয়, বরং তাঁর সত্ত্বার জন্য। ওর মতো বেশিরভাগ মানুষই এটাই ভাবে। এটাই সত্যি। কিন্তু তিনিই একমাত্র সৎ ব্যক্তি যিনি বেশিরভাগ বিশ্বাসের সঙ্গে সবকিছু বলেন। তাই, আমাদের গিরিরাজের কথা খুব মনোযোগ সহকারে শোনা উচিত। কারণ এটাই ওর আদর্শ।’
জাভেদ আখতার আরও বলেন, ‘বিতর্কটি ধর্ম নিয়ে নয়, বরং নারীর মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে। আমি এমন যে কোনও ভদ্র ব্যক্তির কথা জানতে চাই, যার নারীর মর্যাদার প্রতি নির্দিষ্ট শ্রদ্ধা আছে। সে ইহুদি হোক বা পার্সি হোক বা হিন্দু হোক বা বৌদ্ধ হোক বা সে যেই হোক। যদি সে একজন ভদ্র ব্যক্তি হত তাহলে তার প্রতিক্রিয়া কী হত? সুতরাং এটি হিন্দু এবং মুসলিমের বিষয় নয়।