যাবতীয় জল্পনা–কল্পনার অবসান। ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ না খেলার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে অটল থাকল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বৃহস্পতিবার আইসিসি–কে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। বোর্ড কর্তা, জাতীয় দলের ক্রিকেটার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মধ্যে বৈঠকের পর বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছে স্কটল্যান্ড।
বুধবার আইসিসি–র বোর্ড মিটিংয়ে ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর বাংলাদেশের অনুরোধ ১৪–২ ভোটে খারিজ হয়ে যায়। এরপর আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে তাদের দেশের সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করার এবং ভারতে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তারা জাতীয় দলের ক্রিকেটার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে ভারতে দল না পাঠানোর ব্যাপারে অনড় থাকে বাংলাদেশ। আল্টিমেটাম সত্ত্বেও, বাংলাদেশ বোর্ড জানিয়েছে যে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ সন্তোষজনকভাবে সমাধান করা হয়নি।
আইসিসি জানিয়েছে যে, টি২০ বিশ্বকাপে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচী অনুসারেই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ যে আশঙ্কা করছে, তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। বাংলাদেশের পরিবর্তে টি২০ র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।
নিজেদের মধ্যে বৈঠকের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আইসিসির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাযথ আচরণ না করার অভিযোগ করে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আইসিসি আমাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করেনি। আইসিসি ২০ কোটি মানুষকে হতাশ করেছে। আমরা মাথা নত করব না। বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ না খেলে তাহলে এর অর্থ কী তা সকলেরই বোঝা উচিত। আমরা কোনও অবস্থাতেই আমাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার সঙ্গে আপোস করতে পারব না। ক্রিকেট এখন অলিম্পিকে যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের মতো দেশ যদি সেখানে না যায়, তবে এটি আইসিসির ব্যর্থতা।’
আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়। ভারতে খেলার সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনও পরিবর্তন হয়নি। এই উদ্বেগগুলি অনুমান বা কাল্পনিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে নয়। এগুলি বাস্তব ঘটনা থেকে উদ্ভূত। আমাদের দেশের একজন শীর্ষ ক্রিকেটারকে চরমপন্থীদের চাপে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আইসিসি টুর্নামেন্টটি একই দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইসিসি হয়তো বলতে পারে যে, কোনও নিরাপত্তার হুমকি নেই। কিন্তু আইসিসি কোনও দেশ নয়। যে দেশে আমার একজন ক্রিকেটার নিরাপত্তা পাচ্ছে না, সেই একই দেশ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহ–সভাপতি আনিমুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, বোর্ড আইসিসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অপেক্ষা করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ৪ জানুয়ারি আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে একটা বিকল্প ভেন্যু চেয়েছিলাম। আমরা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলি ব্যাখ্যা করেছি এবং ১৯৯৬ এবং ২০০৩ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি উল্লেখ করেছি। শ্রীলঙ্কা সহ–আয়োজক, এবং আমরা সেখানে খেলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাবছি কিভাবে আমরা আবারও আইসিসির কাছে আমাদের অবস্থান তুলে ধরতে পারি। যদি আমাদের মতো একটা দেশ বাদ পড়ে, তাহলে আইসিসি একটা প্রধান ক্রিকেটপ্রেমী দেশকে হারাবে। আমরা হাল ছাড়ছি না, চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে গ্রুপ সি–তে রয়েছে বাংলাদেশ। তাদের কলকাতায় তিনটি এবং মুম্বইতে একটা ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ করেছে। বাংলাদেশ বয়কটের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আইসিসি এখন তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেবে। বৃহস্পতিবার আইসিসি জানিয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে সহজতর করার লক্ষ্যে তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ধারাবাহিক এবং গঠনমূলক আলোচনা চালিয়েছে।