নওদায় যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবে, ইঙ্গিতটা আগে ছিল। ভোটের আগের দিন অশান্তি, বোমাবাজি। ভোটের দিনও অশান্তির আগুনে জ্বলে উঠল মুর্শিদাবাদের নওদায়। পরিস্থিতি রীতিমতো বিস্ফোরক। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সামনেই বেস কয়েকটা তীব্র উত্তেজনা। তৃণমূল কংগ্রেস এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের কনভয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ।
বুধবার রাতেই অশান্তির সূত্রপাত। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সাহিনা মমতাজ খানকে লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের দাবি, হুমায়ুনের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মীরা সাহিনা মমতাজের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। ভোটের দিন সকালে সেই অভিযোগ উড়িয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন বলেন, ‘সাহিনা আমার বোনের মতো। আমরা কেন ওকে মারতে যাব?’ পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘আমার লোককে কেউ পাথর ছুড়লে, আমি তো রসগোল্লা খাওয়াব না, পাল্টা জবাব দেব।’
ভোটের দিন বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নওদার শিবনগর গ্রামের ১৭৩ নম্বর বুথে আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন হুমায়ুন কবীর। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হাবিব শেখের নেতৃত্বে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মী–সমর্থকেরা। ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি দেওয়া হয় হুমায়ুন কবীরকে। উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। দুই দলের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, হুমায়ুনের গাড়ি ঘিরে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলে। তাঁর কনভয়ে হামলা চালানো হয়। এমনকী, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভের জেরে এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। কার্যত থমকে যায় জনজীবন। বিক্ষোভ হঠাতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে৷ পুলিশের লাঠিচার্জে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হন। ভোট চলাকালীন প্রার্থীর গাড়ি ঘেরাও ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। শিবনগরে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। পরে কমিশনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও রাত পর্যন্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে ।
শিবনগরে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আজ কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকলে বড় অঘটন ঘটে যেত। ওরা ছিল বলেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছি।’ একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের মদত দেওয়ার অভিযোগও করেন। নওদার ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর। গোটা ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।