গত বছরই আইপিলের মেগা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সব ফ্র্যাঞ্চাইজিই দল গুছিয়ে নিয়েছিল মেগা নিলাম থেকে। এবছর আইপিএলের নিলামে ফাঁকা জায়গা ভরাট করাটাই লক্ষ্য ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির। নিলামে বাজিমাত করে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ভেঙ্কটেশ আয়ার ও আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দেওয়ার পর অলরাউন্ডারের জায়গা ভরাট করাটা খুবই জরুরি ছিল। লক্ষ্যে সফল নাইটরা। তুলে নিয়েছে ক্যামেরন গ্রিনকে, সর্বোচ্চ ২৫.২০ কোটি টাকাতে। আইপিএলের নিলামে ইতিহাস গড়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার। বিদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যের ক্রিকেটার।
তবে এবারের নিলামে চমক স্বদেশি ব্রিগেড। দুই ‘আনক্যাপড’ প্লেয়ার কার্তিক শর্মা ও প্রশান্ত বীর। দুজনকেই ১৪.২০ কোটি টাকা করে কিনে নিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। দু’জনেরই বেস প্রাইস ছিল ৩০ লক্ষ টাকা। জম্মু ও কাশ্মীরের আকিব নবি পেয়েছেন ৮.৪০ লক্ষ। ভাল দর পেয়েছেন মঙ্গেশ যাদব, রবি বিষ্ণোইরা।
ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে যে টানাটানি হবে, সেটা প্রত্যাশিতই ছিল। সেই মানের অলরাউন্ডার কোথায়? ক্যামেরন গ্রিনকে দলে পাওয়া মানে একজন জোরে বোলারের অভাব যেমন মিটবে, তেমনই ব্যাটারেরও। নাইট টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা ছিল গ্রিনের জন্য শেষ পর্যন্ত ঝাঁপানোর। যে কোনও মূল্যে গ্রিনকে নিতে মরিয়া ছিল। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির তুলনায় নাইটরা এগিয়ে ছিল, কারণ হাতে পর্যাপ্ত অর্থ। গ্রিনকে নেওয়ার জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে ঝাঁপিয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালস। শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করে যায় নাইট রাইডার্স। ২ কোটি টাকা থেকে গ্রিনের দর পৌঁছে যায় ২৫.২০ কোটিতে। যদিও এই পরিমান টাকা গ্রিন পাবেন না। আইপিএল আয়োজক কমিটি আগেই ঠিক করে দিয়েছিল, বিদেশি ক্রিকেটারদের দর যতি উঠুক না কেন, ১৮ কোটির বেশি টাকা তাঁরা পাবেন না। বাকি অর্থ যাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেটারদের উন্নতিকল্পে।
এবারের আইপিএলের নিলাম থেকে মোট ১৩ জন ক্রিকেটারকে কিনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এদের মধ্যে ৬ জন বিদেশি। নাইট রাইডার্স মোট ৬৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। ক্যামেরন গ্রিন ছাড়াও শ্রীলঙ্কার জোরে বোলার মাথিসা পাথিরানাকে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে কিনেছে নাইটরা। পাথিরানাকে নিয়ে প্রথমে আগ্রহ দেখায়নি নাইটরা। শুরুতে দিল্লি ক্যাপিটালস ও লখনউ সুপার জায়ান্টসের মধ্যে লড়াই চলছিল। পাথিরানার দর ১৬ কোটিতে পৌঁছতেই আসরে নামে নাইট রাইডার্স। শেষ পর্যন্ত ১৮ কোটিতে তুলে নেয়। এছাড়া, দিল্লি ও চেন্নাইয়ের সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশের বাহঁাতি জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯.২০ কোটিতে তুলে নেয় নাইট রাইডার্স।
নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্রকেও তুলে নিয়েছে নাইটরা। চেন্নাইয়ের ছেড়ে দেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভুত রাচিনকে নিতে খরচ হয়েছে ২ কোটি টাকা। বাংলার আকাশদীপকে এবার নাইট রাইডার্সের জার্সিতে খেলতে দেখা যাবে। বেস প্রাইস ১ কোটিতে তাঁকে কিনেছে নাইটরা। নিউজিল্যান্ডের উইকেটকিপার–ব্যাটার ফিন অ্যালেনকে ২ কোটি টাকায় নিয়েছে নাইট রাইডার্স। এছাড়া টিম সেইফার্টকেও দলে নিয়েছে।
ক্যামেরন গ্রিন ছাড়াও এবারের আইপিএলের নিলামে চমক দুই ‘আনক্যাপড’ প্লেয়ার কার্তিক শর্মা ও প্রশান্ত বীর। দুজনকেই ১৪.২০ কোটি টাকা করে কিনে নিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। দু’জনেরই বেস প্রাইস ছিল ৩০ লক্ষ টাকা। সেখান থেকে ১৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় কিনেছে চেন্নাই সুপার কিংস। অর্থাৎ বেস প্রাইস থেকে ৪৬৩৩.৩৩ গুণ বেশি দাম পেয়েছেন। দু’জনকেই ভবিষ্যতের তারকা তৈরির জন্য চেন্নাই নিয়েছে। প্রশান্ত বীরের জন্য লখনউ এবং মুম্বইয়ের সঙ্গে জোর টক্কর ছিল চেন্নাইয়ের। পরে রাজস্থান লড়াইয়ে সামিল হয়। ৬ কোটির পর হাল ছেড়ে দেয় রাজস্থান।
উত্তরপ্রদেশের আমেথির প্রশান্ত বীর ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে উঠে এসেছেন। বাঁহাতি স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি বাঁহাতে ব্যাট করেন। রবীন্দ্র জাডেজার বিকল্প হিসেবে তাঁকে তৈরি করতে চায় চেন্নাই টিম ম্যানেজমেন্ট। নিলামের আগেই জাডেজাকে রাজস্থানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল চেন্নাই। উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি রাজ্য টি২০ লিগে নয়ডা সুপার কিংসের হয়েও নজরকাড়া পারফরমেন্স করেন প্রশান্ত।
অন্য দিকে, মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সামনে রেখে এগিয়া চলা কার্তিক শর্মাকেও তুলে নিয়েছে চেন্নাই। রাজস্থানের এই তরুণ উইকেটকিপার–ব্যাটারকে নিয়ে নিয়ে মুম্বই, কলকাতা, লখনউয়ের সঙ্গে লড়াই করে চেন্নাই। পরে হায়দরাবাদও লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করে যায় চেন্নাই। প্রথম রাউন্ডে অবিক্রিত থেকে যাওয়া লিয়াম লিভিংস্টোনকে পরে ১৩ কোটিতে তুলে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। জম্মু ও কাশ্মীরের আকিব নবিকে ৮.৪০ কোটি টাকায় তুলে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস।
৬৪.৩০ কোটি টাকা হাতে নিয়ে এবারের নিলামের আসরে নেমেছিল নাইট রাইডার্স। অন্যদিকে, চেন্নাইয়ের হাতে ছিল ৪৩.৪০ কোটি টাকা। এরপর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (২৫.৫০ কোটি), লখনউ সুপার জায়ান্টস ((২২.৯৫ কোটি), দিল্লি ক্যাপিটালস (২১.৮০ কোটি), রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (১৬.৪০ কোটি), রাজস্থান রয়্যালস (১৬.০৫ কোটি), গুজরাট টাইটান্স (১২.৯০ কোটি), পাঞ্জাব কিংস (১১.৫০ কোটি)। সবথেকে কম টাকা ছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (২.৭৫ কোটি)। নিলামের আগেই ১৩ জন ‘আনক্যাপড’ ক্রিকেটারকে বেস প্রাইসে চুক্তিবদ্ধ করে দল গুছিয়ে নিয়েছিল মুম্বই।