১২ এপ্রিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ব্যাটিং করার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন। চোটের কারণে টানা পাঁচ ম্যাচ মাঠের বাইরে। তাঁর না থাকার প্রভাব পড়েছিল মুম্বইয়ের ব্যাটিংয়ে। ২১ দিন পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন রোহিত শর্মার। মাঠে ফিরেই দুরন্ত হাফ সেঞ্চুরি। মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতকে পৌঁছে যান। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরেও গড়ে ফেললেন ইতিহাস। রোহিতের ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।
টানা চার ম্যাচ হারের পর অবশেষে নিজেদের ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে জয় পেল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। লখনউ সুপার জায়ান্টস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, দুই দলের কাছেই প্লে অফের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার জন্য কার্যত ছিল মরণ–বাঁচন লড়াই। এদিন আবার চোটের জন্য অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়াকে ছাড়াই খেলতে নামে মুম্বই। তবে প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেলটন হার্দিকের অভাব বুঝতে দেননি। এই দুই ব্যাটারের দাপটে ৮ বল বাকি থাকতেই ২২৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মুম্বই। টানা তিন ম্যাচ পরাজয়ের পর এটা ছিল মুম্বইয়ের প্রথম জয়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারে জশ ইংলিসের (৫ বলে ১৩) উইকেট হারালেও মিচেল মার্শ (২৫ বলে ৪৪) ও নিকোলাস পুরানের (২১ বলে ৬৩) বিধ্বংসী ব্যাটিং বড় রানের দিকে এগিয়ে দেয় লখনউ সুপার জায়ান্টসকে। পুরো মরশুম জুড়ে খারাপ ফর্মে থাকা পুরান ফর্মে ফিরে মাত্র ১৭ বলে ৮টি ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে পরের দশ ওভারে মুম্বইয়ের বোলাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে মাত্র ৮৭ রান দিয়ে লখনউকে ২৫০ রানের গণ্ডি পেরোতে দেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ২২৮/৫ তোলে লখনউ। এইডেন মার্করাম ২৫ বলে ৩১ ও হিম্মত সিং ৩১ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন।
লখনউর বিশাল স্কোরের জবাবে রোহিত শর্মা এবং রায়ান রিকেলটনের ঝোড়ো উদ্বোধনী জুটি মুম্বইয়ের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ১০.৪ ওভারে ১৪৩ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন দুজনে। রোহিত ২৭ বলে হাপ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অন্যদিকে, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রিকেলটন ২২ বলে অর্ধশতক হাঁকান। রিকেলটন ৩২ বলে ৮৩ রান করে আউট হন। অন্যদিকে, রোহিত শর্মা ৪৪ বল করেন ৮৪। চলতি আইপিএলে রোহিতের এটা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। এই মাইলফলকে পৌঁছতে রোহিত পাঁচটি ছক্কা ও তিনটি চার মারেন। ১৪ তম ওভারে স্পিনার মণিমানন সিদ্ধার্থের বলে তিনি আউট হন। ততক্ষণে মাত্র ৪৪ বলে সাতটি ছক্কা ও ছয়টি চারসহ ৮৪ রান করে ফেলেছিলেন।
শুধু তাই নয়, রোহিত তাঁর ওপেনিং জুটি রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে মাত্র ১০.৫ ওভারে ১৪৩ রানের এক স্মরণীয় জুটি গড়েন। আইপিএলে এটা ছিল তাঁদের দুজনের মধ্যে তৃতীয় শতরানের জুটি। এর মাধ্যমে রোহিত ও রিকেলটন মুম্বইয়ের হয়ে সর্বাধিক সেঞ্চুরির ওপেনিং জুটির রেকর্ড গড়েন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল পার্থিব প্যাটেল ও লেন্ডল সিমন্সের দখলে।
রোহিত ও রিকেলটন আউট হলেও মুম্বই রানের গতি ধরে রাখে। রোহিতের আউট হওয়ার পর তিলক ভার্মা ও সূর্যকুমার যাদব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। কিন্তু নমন ধীর মাত্র ১২ বলে অপরাজিত ২৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। মুম্বই ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮.৪ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। চলতি মরশুমে ১০ ম্যাচে এটা মুম্বইয়ের তৃতীয় জয়, অন্যদিকে ৯ ম্যাচে লখনউয়ের এটা টানা ষষ্ঠ এবং সব মিলিয়ে সপ্তম পরাজয়।