এবছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাতে বসছে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজনিত পরিস্থিতে হামলাকারী মার্কিন মুলুকে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইরান কি অংশগ্রহন করবে? এই নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল ইরান। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নেবে না ইরানের ফুটবল দল।
ইরানের ওপর ইজরায়েলি ও আমেরিকান হামলার প্রভাব বিশ্বব্যাপী অনুভূত হচ্ছে। এই সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলির পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে। তেল ও গ্যাসসহ বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। পশ্চিম এশিয়ায় বিমান চলাচলও স্থবির হয়ে পড়েছে। খেলাধুলার ওপর প্রভাব ফেলছে। যার পরিনাম ইরানের ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহন না করার সিদ্ধান্ত।
কয়েকদিনের উত্তেজনা এবং জল্পনা-–কল্পনার পর, মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী হঠাৎ করে ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। মার্কিন–ইজরায়েলি বোমা হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়। ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে এবং তখন থেকেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে, যার বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুতর পরিণতি হয়েছে।
ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের ১২তম দিনে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি ঘোষণা করেন যে, ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে না। ক্রীড়ামন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে, যে দেশ তাঁদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে সেখানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে না। তিনি ইজরায়েলি ও আমেরিকান আক্রমণকে দেশের শিশু এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ তুলেছেন। যার ফলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য পরিস্থিতি অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন আহমেদ দোনিয়ামালি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল যে, ইরান তাদের দলকে বিশ্বকাপে পাঠাবে না। এর কারণ ছিল ইরানের সব ম্যাচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। ইরানকে বিশ্বকাপের গ্রুপ জি–তে রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এই গ্রুপে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশর। এই সব দলেরই তাদের ম্যাচগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা রয়েছে। তাই ইরানের দলের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খেলা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো বলেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনও উদ্বেগ অস্বীকার করেছেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে দলটি দেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাবে। তবে ইরানের এই সিদ্ধান্ত ফিফাকে সমস্যায় ফেলেছে। এখন প্রশ্ন হল ইরানকে কীভাবে অংশগ্রহণের জন্য রাজি করানো যায়। ফিফা কি ইরানের পরিবর্তে অন্য কোনও দলকে অন্তর্ভুক্ত করবে, নাকি সেই গ্রুপের অন্যান্য দল ইরানের ম্যাচে বাই পাবে?
ফিফার নিয়ম বলছে, কোনও দল যদি বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে ৩০ দিনের মধ্যে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে ৩২০৮০০ মার্কিন ডলার জরিমান হবে। এর সঙ্গে নির্বাসনের মুখেও পড়তে হবে। ফিফা ঠিক করবে, পরবর্তী কতগুলো টুর্নামেন্ট থেকে সেই দলকে অংশগ্রহণে বিরত রাখবে। ইরান না খেললে তার জায়গায় বিকল্প দলকে নেওয়া হবে। যা ইতিমধ্যেই ভেবে রেখেছে ফিফা। সেটা সরাসরি ইরানের গ্রুপে র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকা দল হতে পারে, যারা যোগ্যতার্জন করতে পারেনি। নইলে প্লেঅফ খেলা দলের মধ্যে থেকেও কাউকে নেওয়া যেতে পারে।