এবছর টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়েছিল ইতালি। শুধু তাই নেপালের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ও তুলে নিয়েছিল। ফুটবলের দেশ হয়ে ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর সেই দেশ কিনা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নেই! হ্যাঁ, অবাক হলেও এটাই বাস্তব। ইউরোপিয়ান প্লে–অফ ফাইনালে বসনিয়া–হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপের টিকিট পেল না ইতালি। এই নিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপের বাইরে আজুরিরা। অন্যদিকে, ৩৪ বছর পর যোগ্যতা অর্জন করল তুরস্ক।
ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলতে এসে ইতালির অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন বলেছিলেন, আমাদের এই বিশ্বকাপ খেলাটা হয়তো ফুটবল দলকে উদ্বু্দ্ধ করবে। ক্রিকেট টিমের ইতিহাস তৈরি যে ফুটবল দলকে বিন্দুমাত্র উদ্বুদ্ধ করেনি, বসনিয়া–হার্জেগোভিনার কাছে পরাজয়ই তার প্রমান। জেনিকায় বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে ইউরোপিয়ান প্লে–অফ ফাইনালে আয়োজকদের কাছে টাইব্রেকারে ৪–১ ব্যবধানে হেরেছে ইতালি। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র ছিল।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে ময়েজ কিনের গোলে এগিয়ে যায় ইতালি। ৪১ মিনিটে প্রায় নিশ্চিত গোল বাঁচাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইতালির আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইতালিকে। ১০ জনের ইতালির বিরুদ্ধে ম্যাচের ৭৯ মিনিটে সমতা ফেরায় বসনিয়া। বাকি সময় আর কোনও গোল হয়নি। অতিরিক্ত সময়েও খেলার ফল থাকে ১–১। টাইব্রেকারে ম্যাচের নিস্পত্তি হয়। টাইব্রেকারে ইতালির হয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে। এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হল ইতালি। প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ইতালিই প্রথম দল, যাদের টানা তিন বিশ্বকাপে দেখা যাবে না। স্বাধীন হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেল বসনিয়া।
ইতালি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ না পেলেও ২৪ বছর পর যোগ্যতা অর্জন করল তুরস্ক। প্রিস্টিনায় প্লে–অফ ফাইনালে কসোভোকে ১–০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেল তুরস্ক। তুরস্কর হয়ে ৫৩ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন কেরেম আকতারকোগ্লু। ২০০২ শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছিল তুরস্ক। পৌঁছে গিয়েছিল সেমিফাইনালেও।
অন্যদিকে, এবারের বিশ্বকাপে দেখা যাবে না লেওয়ানডস্কিকে। সুইডেনের কাছে হেরে ছাড়পত্র পেল না পোল্যান্ড। স্টকহোমের স্ট্রবেরি অ্যারেনায় প্লে–অফ ফাইনালে পোল্যান্ডকে ৩–২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে সুইডেন। প্রথমার্ধে ২–১ গোলে এগিয়ে ছিল সুইডেন। ৫৫ মিনিটে সুইডারস্কির গোলে সমতায় ফেরে পোল্যান্ড। কিন্তু ৮৮ মিনিটে ভিক্টর ইয়োরকায়েসের গোলে আবারও এগিয়ে যায় সুইডেন। পোলিশ তারকা রবার্ট লেওয়ানফস্কি পুরো সময় মাঠে থাকলেও গোল পাননি।