শিল্ডের উদ্বোধনী ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। চাপ বেড়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ওপর। শক্তিশালী দল নিয়েও যদি গোকুলাম কেরালার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় না আসে, লাল–হলুদ সমর্থকদের কাছে টিপ্পনি শুনতে হত বাগান সমর্থকদের। যাইহোক সবুজ–মেরুন সমর্থকদের মান বাঁচালেন ফুটবলাররা। গোকুলাম কেরালাকে ৫–১ ব্যবধানে উড়িয়ে শিল্ড অভিযান শুরু করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সবুজ–মেরুন জার্সি গায়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল পেলেন নবাগত ব্রাজিলিয়ান রবসন ডি সিলভা। দুটি করে গোল করেন আলবার্তো রডরিগেজ ও জেমি ম্যাকলারেন।
বৃষ্টিস্নাত কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে দর্শকদের বিক্ষোভের মাঝেই ভাল শুরু করেছিল মোহনবাগান। ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায়। নবাগত ব্রাজিলিয়ান রবসনের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন আলবার্তো রডরিগেজ। ২৭ মিনিটেই দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় মোহনবাগান। এবারও গোলের কারিগড় রবসন। তাঁর পাস থেকে ২–০ করেন জেমি ম্যাকলারেন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোকুলামের জালে বল ঢুকিয়েছিলেন মনবীর সিং। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হালকা চাপ তৈরি করেছিল গোকুলাম কেরালা। আর সেই চাপেই আপুইয়ার ভুলে ব্যবধান কমায় গোকুলাম। ৪৮ মিনিটে মার্টিনেজের সেন্টার ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল ঢুকিয়ে দেন আপুইয়া। মিনিট তিনেক পরেই আবার ব্যবধান বাড়ায় মোহনবাগান। এবারও গোলের কারিগড় সেই রবসন। তাঁর কর্নার থেকে আবার হেডে গোল করেন আলবার্তো রডরিগেজ। ৫৩ মিনিটে ম্যাকলারেনের পাস থেকে ৪–১ করেন রবসন। ৭৮ মিনিটে মোহনবাগানের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন ম্যাকলারেন।
এদিকে, ম্যাচের আগে ম্যাচ বয়কটের মাধ্যমে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেম মোহনবাগান সমর্থকরা। সমর্থকদের ক্ষোভের কারণ এএফসি এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২–এর ম্যাচ খেলতে ইরানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত। ২ দিন আগে এই ব্যাপারে সমর্থকদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন দলের দিমিত্রি পেত্রাতোস, জেমি ম্যাকলারেনরা। ফুটবলারদের ওপর ক্ষোভ তো ছিলই, এবার ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে সোচ্চার সবুজ–মেরুন সমর্থকরা।
এদিন কিশোর ভারতীতে শ’দুয়েক সমর্থক এসেছিল। তবে দলকে সমর্থন করতে নয়, বিক্ষোভ দেখাতে। কখনও ‘গো ব্যাক’ তো কখনও ‘শেম শেম’ ধ্বনিতে মুখরিত হন সমর্থকরা। খেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাতে ব্যানার। তাতে লেখা ‘কাওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট।’ যদিও টিফো নিয়ে মাঠে ঢোকার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন সমর্থকরা। তবে একটা ব্যানার নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন। তা নিয়েই শুরু হয় প্রতিবাদ। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে ব্যানার বেশিক্ষণ গ্যালারিতে রাখা সম্ভব হয়নি।