পেত্রাতোসের শেষ মুহুর্তের গোলে ওড়িশাকে হারিয়ে টানা ২ বার লিগ–শিল্ড জয়, ইতিহাস গড়ল মোহনবাগান
রবিবারই ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। ওড়িশা এফসি–কে হারাতে পারলেই আইএসএলের প্রথম দল হিসেবে পরপর দু’বার লিগ–শিল্ড ঢুকত গঙ্গাপারের ক্লাবে। ইনজুরি সময়ে করা দিমিত্রি পেত্রাতোসের গোলে ওড়িশা এফসি–কে হারিয়ে এদিনই লিগ–শিল্ড ঘরে তুলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এই নিয়ে টানা ২ বার।
রবিবারই ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। ওড়িশা এফসি–কে হারাতে পারলেই আইএসএলের প্রথম দল হিসেবে পরপর দু’বার লিগ–শিল্ড ঢুকত গঙ্গাপারের ক্লাবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত–পাকিস্তান মহারণের দিনেও উৎসবের মেজাজে যুবভারতী ভরিয়েছিলেন সবুজ–মেরুন সমর্থকরা। সমর্থকদের হতাশ হয়ে ফিরতে হয়নি। ইনজুরি সময়ে করা দিমিত্রি পেত্রাতোসের গোলে ওড়িশা এফসি–কে হারিয়ে এদিনই লিগ–শিল্ড ঘরে তুলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এই নিয়ে টানা ২ বার।
লিগ–শিল্ড জয়ের নেশায় এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই ওড়িশা এফসি–র ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বাঁদিক থেকে লিস্টন কোলাসো, ডানদিক থেকে মনবীর সিং বারবার আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন। আর মাঝখান দিয়ে অপারেট করছিলেন গ্রেগ স্টুয়ার্ট ও জেমি ম্যাকলারেন। ৯ মিনিটে একক প্রয়াসে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে গিয়েও ঠিকভাবে সেন্টার করতে পারেননি লিস্টন কোলাসো। ৩১ মিনিটে ওড়িশার রক্ষাকর্তা হয়ে দাঁড়ান গোলকিপার অমরিন্দার সিং। আপুইয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে ডানদিক দিয়ে তীব্র গতিতে ঢুকে জোরালো শট নিয়েছিলেন জেমি ম্যাকলারেন। কোনও রকমে বাঁচান ওড়িশা এফসি গোলকিপার। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে লুজ বল পেয়ে হাফ টার্নে ঘুরে চকিতে শট নিয়েছিলেন গ্রেগ স্টুয়ার্ট। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান অমরিন্দার। ফিরতি বল পেয়ে গিয়েছিলেন ম্যাকলারেন। তাঁর শট আবার আটকান ওড়িশা গোলকিপার।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণের চাপ বাড়ায় মোহনবাগান। দুই প্রান্ত দিয়ে বারবার আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিল। বাঁদিকে লিস্টন কোলাসোকে আটকাতে হিমসিম খেতে হচ্ছিল রহিম আলিকে। এরই মাঝে ৬০ মিনিটে গ্রেগ স্টুয়ার্টের পাস থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর সিং। ওড়িশা এফসি–র বলার মতো সুযোগ ৬৫ মিনিটে। মাঝখান দিয়ে ঢুকে জোরালো শট নিয়েছিলেন হুগো বুমোস। ঝাঁপিয়ে কোনও রকমে বাঁচান বিশাল কাইথ।
ম্যাচের শেষ দিকে মোহনবাগানের আক্রমণের ঝড়ে দিশেহারা হয়ে যায় ওড়িশা এফসি। ৮১ মিনিটে সবথেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জেমি ম্যাকলারেন। ডানদিক থেকে উঠে গিয়ে নীচু সেন্টার করেছিলেন মনবীর সিং। ৬ গজ বক্সে মধ্যে থেকে সামনে শুধু অমরিন্দারকে পেয়েও পায়ে বলে সঠিকভাবে সংযোগ করতে পারেননি ম্যাকলারেন। পরের মিনিটেই ৩৫ গজ দুর থেকে নেওয়া দিমিত্রি পেত্রাতোসের গোলার মতো শট কোনও রকমে ফিস্ট করে বাঁচান অমরিন্দার। ৮৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যান মোর্তাদা ফল। ম্যাকলারেন বল নিয়ে তীব্র গতিতে ঢুকছিলেন। বক্সে ঢোকার মুখে তাঁকে পেছন থেকে টেনে ফেলে দেন মোর্তাদা। রেফারি মোহনবাগানের অনুকূলে ফ্রিকিক দেন। লালকার্ড দেখান মোর্তাদাকে।
ওড়িশা ১০ জনে হয়ে যাওয়ায় আরও চেপে ধরে মোহনবাগান। অবশেষে ম্যাচের ইনজুরি সময়ের ৩ মিনিটে সেই কাঙ্খিত গোল পেয়ে যায় হোসে মোলিনার দল। মনবীরের কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁপায়ের গড়ানো শটে গোল করে মোহনবাগানের দ্বিতীয়বার লিগ–শিল্ড জয় নিশ্চিত করেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। ২২ ম্যাচে ৫২ পয়েন্টে পৌঁছে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এফসি গোয়া বাকি সব ম্যাচ জিতলেও মোহনবাগানকে স্পর্শ করতে পারবে না।
Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.