রবিবার সিরিয়ায় দুই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। হোমস শহরের আলাউইত মসজিদে নামাজের সময় বোমা হামলায় আটজন নিহত এবং ১৮ জন আহত হওয়ার দু’দিন পর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উপকূলীয় শহর লাতাকিয়া, তারতুস এবং অন্যান্য স্থানে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিল। এই সময় দুই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
হোমস শহরের প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, হোমসের মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরক ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছিল। সেই ডিভাইস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কর্তৃপক্ষ শুক্রবারের বোমা হামলার জন্য কোনও সন্দেহভাজনকে এখনও শনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন। শনিবার নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সারায়া আনসার আল–সুন্নাহ নামে এক স্বল্প পরিচিত গোষ্ঠী তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করে। সেই পোস্টে তারা ইঙ্গিত দেয় যে, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল শিয়া ইসলামের একটা শাখা আলাউইত সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যা করা। এই আলাউইত সম্প্রদায়কে কট্টরপন্থী ইসলামীরা ধর্মত্যাগী বলে মনে করে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সিরিয়ার বাইরে বসবাসকারী একজন আলাউইত শেখ রবিবারের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি সিরিয়া এবং প্রবাসীদের সুপ্রিম আলাউইত ইসলামিক কাউন্সিল নামে একটা দলের প্রধান।
লাতাকিয়ায় বিক্ষোভ চলার সময় সরকারপন্থীরা আলাউইত বিক্ষোভকারীদের ওপর পাথর ছুঁড়তে থাকে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একটা দল তাদের দিকে এগিয়ে আসা একজন প্রতিপক্ষকে মারধোর করে। নিরাপত্তা বাহিনী দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে এবং শূন্যে গুলি চালায়। আলাউত সম্প্রদায়ের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা হত্যাকাণ্ড, অবৈধ গ্রেফতার ও আটক এবং কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বেরিয়েছিলাম।’
রাষ্ট্র পরিচালিত সানা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ছুরি হামলা, পাথরের আঘাত এবং নিরাপত্তা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিক উভয়কেই লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। লাতাকিয়ার এপি ফটোগ্রাফার স্থানীয় হাসপাতালে সংঘর্ষে নিহত চারজনের মৃতদেহ দেখেছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের মাথায় পাথরের আঘাতের মতো আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং একজনের বুকে গুলি লেগেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল আসাদের পতনের পর প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। আলাউইত সম্প্রদায়ের আসাদ দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। তারপর থেকেই দেশটিতে বেশ কয়েকটি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মার্চ মাসে আসাদের সমর্থকদের দ্বারা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চালানো এক অতর্কিত হামলার ফলে কয়েকদিন ধরে সহিংসতা শুরু হয় যার ফলে শত শত মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই আলাউইত। তারপর থেকে যদিও পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। তবে আলাউইতদের ওপর মাঝে মাঝে সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হচ্ছে।
আসাদের পতনের পর থেকে সরকারি চাকরিতে তাদের প্রতি বৈষম্য এবং তরুণ আলাউইত পুরুষদের কোনও অভিযোগ ছাড়াই আটক করার অভিযোগও করেছে। আসাদ রাজবংশের শাসনকালে সরকারি চাকরি, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীতে আলাউইতদের প্রতিনিধিত্ব ছিল বেশি। সরকারি কর্মকর্তারা শুক্রবারের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপরাধীদের খুঁজে বার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু এখনও কোনও গ্রেফতারের খবর নেই।