দিল্লিতে বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই কেঁপে উঠল পড়শি দেশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদও। দিল্লির মতো সেখানেও গাড়িতে বিস্ফোরণ। আজ, মঙ্গলবার ইসলামাবাদ জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সের কাছে একটা গাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পার্ক করা গাড়ির ভেতরে লাগানো গ্যাস সিলিন্ডারের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।
ইসলামাবাদ জেলা আদালতের প্রবেশপথের কাছে ব্যস্ত সময়ে দুপুর ১২.৩০ নাগাদ এই বিস্ফোরণ ঘটে। আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ৬ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এর শব্দ শোনা যায়। ঘটনার বেশ কয়েকটা ভিডিওতে দেখা গেছে, একটা পোড়া গাড়ি থেকে আগুনের শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশের দিকে উড়ে যাচ্ছে। বিস্ফোরণে কাছে পার্ক করা বেশ কয়েকটা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই আইনজীবী এবং আদালতে কর্মরত কর্মী। পুলিশের ধারণা, এটা আত্মঘাতী হামলা।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী রুস্তম মালিক সংবাদসংস্থা এএফপি–কে বলেন, ‘আমি যখন গাড়ি পার্ক করে কমপ্লেক্সে প্রবেশ করলাম, তখন গেটে একটা জোরে শব্দ শুনতে পাই। এরপর গেটের দিকে ছুটে গিয়ে দেখি দুটি মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। বেশ কয়েকটা গাড়ি আগুনে জ্বলছে।’ ঘটনার পরপর দমকলবাহিনী ও সেনাবাহিনীর দল ছুটে আসে। তাদের দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি আত্মঘাতী বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ক্যাডেট কলেজ ওয়ানায় তেহরিক–ই–তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) একটা আক্রমণ পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী বানচাল করার কয়েক ঘন্টা পরেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই অভিযানে দুই টিটিপি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে টিটিপি হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
এই বিস্ফোরণের ঘটনা ২০১৪ সালে পেশোয়ারে সেনা পরিচালিত একটা স্কুলে তালিবান হামলার স্মৃতি ফিরিয়ে নিয়ে আসছে। ওই হামলায় ১৫৪ জন নিহত হন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে হামলাকারীরা ২০১৪ সালে পেশোয়ারে হামলার পুনরাবৃত্তি করতে চেয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে, পাকিস্তান তেহরিক–ই–তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), যা পাকিস্তানি তালিবান নামেও পরিচিত, তাদের হুমকির সঙ্গে লড়াই করছে। তালিবানরা কাবুলে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে পাকিস্তানে টিটিপি–র তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির পেছনে এটি একটি প্রধান কারণ, যা ইসলামাবাদ টিটিপি নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করেছে।