গোটা দেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আকাল। গ্যাসের জন্য হাহাকার। এই অবস্থায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ভারতের। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আসার জন্য দুটি তরল পেট্রোলিয়াম ট্যাঙ্কারকে অনুমতি দিয়েছে ইরান। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালি ভারতের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই এই ঘটনা ঘটল। ভারত দুই বা তিন ঘন্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল রুট দিয়ে নিরাপদে প্রবেশ করতে পারবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানি রাষ্ট্রদূতের হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার কথা বলেছেন। পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব বাজারের সঙ্গে সংযুক্তকারী সংকীর্ণ করিডোর দিয়ে জাহাজ চলাচল নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে। ভারত কি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে? এই প্রশ্নের জবাবে ইরানি রাষ্ট্রদূত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইতিবাচক অগ্রগতি আশা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতেঅ এটা দেখতে পাবে। আমার মনে হয় দুই বা তিন ঘন্টা পরেই ভারতের জাহাজ যাতায়াত করবে।’
ফাতালি ভারতকে ইরানের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এই অঞ্চলের দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে ইরান এবং ভারত এই অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ ভাগ করে নেয়।’ ইরানি রাষ্ট্রদূত নয়াদিল্লি এবং তেহরানের মধ্যে বিস্তৃত সম্পর্ককে বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার ওপর নির্মিত সম্পর্ক হিসাবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে ইরান এবং ভারত বন্ধু। আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, আমাদের অভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে।’ ফাতালি কঠিন সময়ে ইরানকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি বলছি যে, যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করেছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহ এবং গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। এই পথের ব্যাঘাত ইতিমধ্যেই জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। ভারচত এই অঞ্চল দিয়ে তার অপরিশোধিত তেলের একটা বড় অংশ আমদানি করে।