ইরানে রাজনৈতিক সঙ্কট আরও গভীর হচ্ছে। দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীরা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাদের বিক্ষোভ তীব্রতর করেছে। যার ফলে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে শুক্রবার হিংসাত্মক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার রাতে বিক্ষোভকারীরা দেশজুড়ে ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালায়। বাসিজ আইআরজিসি ক্যাম্পেও হামলা চালিয়েছে। ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রতিক্রিয়ায় সরকার গোটা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
প্রাথমিকভাবে ইরানের এই আন্দোলন মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে ছিল। ধীরে ধীরে আন্দোলন সরকার এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদে পরিণত হয়েচে। বর্তমানে এই বিক্ষোভ আর তেহরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তেহরানের পাশাপাশি মাশহাদ, কোম, ইসফাহান, মাশরিয়েহ, কাজভিন, বুশেহর এবং ওয়াজদেও সহিংস বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি জায়গায় রাস্তায় আগুনও লাগিয়েছে। এই কারণেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আজ ইরান জুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের একজন চিকিৎসক টাইম ম্যাগাজিনকে বলেছেন যে, রাজধানী তেহরানের মাত্র ৬টি হাসপাতালে কমপক্ষে ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এদের মধ্যে ১৪ জন সেনা সদস্য রয়েছেন। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ১৪ দিনেরও বেশি সময় কেটে গেছে। ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে। সারা দেশে প্রায় ৪০০টি স্থানে এই বিক্ষোভ চলছে। পুলিশ ২,৩০০ জনকে আটক করেছে।
শুক্রবার দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বাসিজ আইআরজিসি ক্যাম্পেও হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও বিক্ষোভকারীরা তেহরানে ২৬টি ব্যাঙ্ক লুট করেছে, ২৫টি মসজিদে আগুন লাগিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আগুনে ১০টি সরকারি ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪৮টি দমকলের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে এবং ৪২টি বাসে আগুন লাগানো হয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রয়েছে।
তেহরানের মেয়র আলীরেজা জাকানি বলেছেন যে, ইরানের রাজধানীতে বড় ধরনের দাঙ্গা শহরের অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিকে তিনি বলেছেন, ‘১টা হাসপাতাল, দুটি চিকিৎসা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২৬টি ব্যাঙ্ক লুট করা হয়েছে। ২৫টি মসজিদে আগুন লাগানো হয়েছে এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস মিলিশিয়ার বাসিজের সদর দফতর আক্রমণ করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা ১০টি সরকারি ভবন, ৪৮টি দমকলের গাড়ি, ৪২টি বাস এবং অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।