মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। মার্কিন ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানও প্রতিপক্ষদের উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে। আমেরিকা পূর্ণ শক্তি নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত। এর মাঝেই কোরিয়ার দিকে নজর ডোনাল্ড ট্রাম্পের? সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বড় সামরিক মহড়া শুরু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হাজার হাজার সেনা এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ নিয়ে বরাবরাই ক্ষুব্ধ। কারণ তারা বিশ্বাস করে যে দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই যৌথ সামরিক মহড়া আক্রমণের আগে একটা মহড়া এবং তারা তাদের সামরিক প্রদর্শন এবং অস্ত্র পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। এই যৌথ সামরিক মহড়া সম্পর্কে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ জানিয়েছেন যে, ফ্রিডম শিল্ডে প্রায় ১৮,০০০ কোরিয়ান সেনা অংশগ্রহণ করবে এবং এটা ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণকারী আমেরিকান সেনার সংখ্যা প্রকাশ করেনি মার্কিন বাহিনী কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমে জল্পনা চলছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সহায়তা করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কিছু সামরিক জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। তার মধ্যেই এই যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত সপ্তাহের শুরুতে, কোরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী বলেছিল যে, তারা নিরাপত্তার কারণে সামরিক সম্পদের নির্দিষ্ট গতিবিধি সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করবে না। বেশ কিছু মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র–বিরোধী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কোরিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে। তবে কোরিয়ান কর্তারা বলেছেন যে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রভাব ফেলবে না।
উত্তর কোরিয়া সবসময় ফ্রিডম শিল্ডের প্রতি ক্ষুব্ধ। এই ফ্রিডম শিল্ডকে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণের জন্য একটা মহড়া বলে মনে করে এবং সামরিক প্রদর্শন এবং অস্ত্র পরীক্ষা বৃদ্ধির জন্য এটাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। তবে, ফ্রিডম শিল্ডে অংশ নেওয়া দেশগুলির দাবি, এই মহড়াগুলি কেবল প্রতিরক্ষামূলক।
২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে তাঁর প্রথম মেয়াদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া ওয়াশিংটন এবং সিওলের সঙ্গে সমস্ত অর্থপূর্ণ কথাবার্তা বন্ধ রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ কিম তাঁর পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে এবং মস্কোর সঙ্গে সামরিক চুক্তির মাধ্যমে তাঁর প্রভাব বিস্তার করতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে ব্যবহার করেছেন। এর পলে যুদ্ধ বাহিনীকে শক্তিশালী করতে হাজার হাজার উত্তর কোরিয়ার সেনা এবং বৃহৎ অস্ত্রের চালান পেয়েছে।
ফ্রিডম শিল্ড হল মিত্র দেশগুলির দ্বারা পরিচালিত দুটি দ্বিবার্ষিক ‘কমান্ড পোস্ট’ সামরিক মহড়ার মধ্যে একটা। অন্যটি হল, ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’, যা আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হয়। এই মহড়াগুলি বেশিরভাগই কম্পিউটার সিমুলেটেড এবং পরিবর্তিত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে মিত্র দেশগুলির যৌথ সামরিক অপারেশনাল ক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। মার্চের মহড়ার সঙ্গে ‘ওয়ারিয়র শিল্ড’ নামে একটা মাঠ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম থাকবে, তবে ফ্রিডম শিল্ডের সময় মাঠ মহড়ার সংখ্যা কমিয়ে ২২ করা হয়েছে, যা গত বছরের ৫১টি ছিল।