আবার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। সোমবার শহরের অত্যন্ত সুরক্ষিত শাহর–ই–নও এলাকার এক হোটেলে একটা শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত ও ১৫ আহত হয়েছেন।
আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কাবুলের ব্যস্ততম এবং সবচেয়ে নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহর–ই–নও। এই বাণিজ্যিক এলাকায় প্রধান অফিস, শপিং কমপ্লেক্স এবং বেশ কয়েকটি বিদেশী দূতাবাস অবস্থিত।
বিস্ফোরণের ফলে হোটেল এবং তার আশেপাশে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যায়। ইসলামিক স্টেট এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা নিয়ে তদন্ত করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
আরও পড়ুনঃ ঝটিকা সফরে এসে নরেন্দ্র মোদী সঙ্গে বৈঠক আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
একটা চীনা রেস্তোরাঁকে লক্ষ্য করে এই আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়েছিল। রেস্তোরাঁটির নাম ল্যানঝো বিফ নুডলস। শাহর–ই–নও এলাকায় প্রচুর চীনা নাগরিক বসবাস করেন। সূত্রের মতে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করেই এই আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তালিবান প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। তালিবান পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান বলেছেন, ‘এই আত্মঘাতী হামলা কারা চালিয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।’
২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে আফগানিস্তানে বোমা হামলা কমেছে। তবে হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। আইএসআইএল (আইএসআইএস) এর সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি দেশে সক্রিয় রয়েছে এবং মাঝে মাঝে হামলা চালায়। ২০২৫ সালে আফগানিস্তানে দুটি আত্মঘাতী হামলা হয়েছে। তালিবানরা ক্ষমতায় আসার পর নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও, অসংখ্য হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার বেশিরভাগই আইএসআইএল–এর স্থানীয় শাখার। এই হামলার পেছনে আইএসআইএল রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।