আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ইজরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইজরায়েল হাসপাতাল লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইজরায়েলি বিমান বাহিনী গান্ধী হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর ফলে হাসপাতালে আগুন লেগে যায়। অসংখ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার সময় হাসপাতালে বেশ কয়েকশ রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। হামলার পরপরি রোগী, চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের কর্মী এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। সমস্ত রোগীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ইরান শুধুমাত্র জানিয়েছে, ইজরায়েল গান্ধী হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, গান্ধী হাসপাতাল ছাড়াও অন্যান্য হাসপাতালগুলিতেও হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথ বাহিনী।
যদিও ইজরায়েলি হামলায় হাসপাতালে হতাহতের সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। তবে বেশ কয়েকজন রোগী, পরিচারিকা এবং কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার পর ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, একদল নার্স নবজাতক শিশুদের স্থানান্তর করছেন। ইরান বেসামরিক নাগরিক এবং হাসপাতালের ওপর হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে। গান্ধী হাসপাতালকে কেবল ইরানেই নয়, এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গান্ধী হাসপাতালের ওপর হামলায় বিপুল সংখ্যক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। যদিও সরকারি পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে অনেক রোগী এবং চিকিৎসা কর্মী ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। স্থানীয় প্রশাসনও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। শুধু হাসপাতাল নয়, ইরানের মধ্যাঞ্চলে ছোট শিশুদের একটা স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এ পর্যন্ত ১৮৫ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ছোট শিশু। এখন অভিযোগ উঠেছে যে হাসপাতালের উপর হামলা একটি মানবিক সংকট।
ইরানের তেহরানে অবস্থিত গান্ধী হাসপাতালকে এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই হাসপাতালটি ২০০৮–২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত একটা অত্যাধুনিক বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, যা ৩২,০০০ বর্গমিটার আয়তনের ক্যাম্পাসে অবস্থিত এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এটা স্বাস্থ্য পর্যটনের জন্য পরিচিত, যেখানে একটা ১৭ তলা হাসপাতাল এবং একটা ২১ তলা হোটেল রয়েছে।
এদিকে, বাহরিনের মানামায় মার্কিন নৌ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের দাবি, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় ক্ষতি করেছে এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকেও আক্রমণ করেছে। খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইজরায়েলের হাইফা শহরের এক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষা এবং ইজরায়েলি আগ্রাসনের জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বিবৃতিতে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ইরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রাখা এবং আমাদের নেতা ও যুবকদের হত্যার পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার আমাদের আছে। উপযুক্ত সময়ে ও স্থানে আমরা সেই জবাব দেব।’ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইজরায়েল গত ১৫ মাস ধরে যে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে, তা বিনা চ্যালেঞ্জে চলতে পারে না। এই হামলা সেই আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং লেবাননের অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করার একটি সতর্কবার্তা।
ইরানও ক্রমাগত প্রতিশোধ নিয়ে চলেছে। ইরান একই সঙ্গে একাধিক দেশে আক্রমণ করেছে। বিবৃতি অনুসারে, বাহরিন, ইরাক (কুর্দিস্তান অঞ্চল সহ), জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলির ভূখণ্ডে এই হামলা চালানো হয়েছে। এই দেশগুলি বলেছে যে এই ধরনের হামলা সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং যে দেশগুলি কোনও শত্রুতায় জড়িত নয় তাদের লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন।