নির্জন কারাগারে বন্দী। খেতে দেওয়া হচ্ছে নোংরা জল। বন্দী দশায় যে কোনও অবস্থায় হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন বাবা। এমনই আশঙ্কা করছেন ইমরান খানে দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেইমান খান। দুজনেই দাবি করেছেন, বাবাকে ‘মৃত্যু কক্ষে’ মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। ইমরানের দুই সন্তানের আশঙ্কা, তাঁরা আর কখনও বাবাকে দেখতে পাবেন না।
স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাসিম এবং সুলাইমান বলেছেন, ‘পরিস্থিতি শুধু খারাপ নয়, চরম ভয়াবহ। বাবাকে ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটা নির্জন কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে বাবাকে নোংরা জল খেতে দেওয়া হচ্ছে। আশেপাশে সব হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীরা রয়েছে। যে কোনও সময় বাবা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। এর থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। আমরা হয়তো বাবাকে আর কখনও দেখতে পাব না।’ তবে ইংল্যান্ডে বসবাসকারী ইমরানের দুই ছেলে জানিয়েছেন যে, তাঁরা জানুয়ারিতে পাকিস্তানে আসার পরিকল্পনা করেছেন। ভিসার জন্যও আবেদন করেছেন। কাসিম জানিয়েছেন, বাবার সঙ্গে তাঁদের কথা হয়নি।
সাক্ষাৎকারে সুলেইমান দাবি করেছেন যে, তাঁদের বাবাকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং এমনকি কারারক্ষীদের সঙ্গেও কথা বলতেও দেওয়া হচ্ছে না। এটাকে মানসিক নির্যাতনের কৌশল বলে অভিহিত করেছেন তিনি। সুলেইমান বলেন, ‘বাবাকে ২৩ ঘন্টা একটা নির্জন কক্ষে রাখা হয় এবং কখনও কখনও কারেন্টও অফ করে দেওয়া হয়। বাবাকে চূড়ান্ত খারাপ পরিস্থিতিতে রাখা হচ্ছে, যা কোনও বন্দীর জন্য আন্তর্জাতিক আইনি মান পূরণ করে না।’
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা শাহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে দীর্ঘায়িত বা অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্জন কারাবাস নিষিদ্ধ এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে, স্কাই নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময়, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি ইমরানের ছেলেদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জাইদি বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ৮৬০ দিন ধরে কারাগারে ছিলেন এবং ৮৭০ বার দেখা করেছেন। যদিও প্রতি সপ্তাহে একবার দেখা করার অনুমতি ছিল।