অবশেষে বন্ধ হল দীর্ঘদিন ধরে চলা থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার সীমান্ত যুদ্ধ। শনিবার দুই দেশ একটা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ–পূর্ব এশীয় দুই দেশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াইয়ের অবসান হল। এই লড়াইয়ের মধ্যে ছিল যুদ্ধবিমান উড়িয়ে দেওয়া, রকেট ও কামান হামলা।
দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষই আর কোনও হামলা ছাড়া ছাড়াই সীমান্তে সেনা মোতায়েন রাখতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে সব ধরণের অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বেসামরিক নাগরিক, বেসামরিক বস্তু এবং অবকাঠামো এবং উভয় পক্ষের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সীমান্তে যে কোনও শক্তিবৃদ্ধি উত্তেজনা বাড়াবে এবং পরিস্থিতি সমাধানের দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।’
কম্বোডিয়ান পক্ষ কর্তৃক জারি করা দেশগুলির স্পেশাল জেনারেল বর্ডার কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উভয় পক্ষই এই যৌথ বিবৃতি স্বাক্ষরের সময়ের পর ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ১২:০০ টা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তিতে সব ধরণের অস্ত্র, বেসামরিক নাগরিক, বেসামরিক বস্তু এবং অবকাঠামো এবং উভয় পক্ষের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে হামলা, আহত ২০, বাতিল জেমসের কনসার্ট
আরও পড়ুনঃ জাতিগত নির্যাতনের প্রতিবাদ, উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে হত্যা করা হল ত্রিপুরার ছাত্রকে, গ্রেফতার ৫
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফোন নাক্রাফানিত এবং কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী টি সেইহা স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে ২০ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটল। এই ২০ দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই পক্ষের কমপক্ষে ১০১ জন নিহত এবং ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জুলাই মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একবার যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করেছিল। জুলাইয়ের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর চলতি মাসের শুরুতে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে আবার সংঘর্ষ তীব্র হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় থাইল্যান্ড যুদ্ধবিমান এবং কামান হামলা চালায়। কম্বোডিয়া রকেট হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়।
এই বিরোধের মূল ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে, যখন কম্বোডিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রশাসনের অধীনে সীমানা রেখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। থাইল্যান্ড দাবি করে আসছে যে, সেই সময়ে উৎপাদিত কিছু মানচিত্র ভুলভাবে সীমানা সংজ্ঞায়িত করেছিল এবং পূর্ববর্তী চুক্তিতে উল্লেখিত প্রাকৃতিক জলাশয় সীমানা অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ডিসেম্বরের উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তিনি থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন এবং দাবি করেছেন যে তারা যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছেন। তিনি আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করে বলেন, উভয় সরকারই গুলিবর্ষণ বন্ধ করার এবং পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির মতো শান্তি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই বিবৃতি সত্ত্বেও সংঘর্ষের খবর অব্যাহত ছিল, যা কূটনৈতিক ঘোষণা এবং বাস্তবতার মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তুলে ধরে। থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া উভয় দেশের কর্মকর্তারা পরে বলেন যে, যুদ্ধবিরতির শর্ত এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। সম্প্রতি, থাইল্যান্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল নিশ্চিত করেন যে, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু দাবি করেন যে, থাই ভূখণ্ড বা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য আর কোনও হুমকি না আসা পর্যন্ত থাই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি কম্বোডিয়ান বাহিনীকে যুদ্ধবিরতি প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে।