আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট৷ আবার ভাঙড় থেকে লড়াই করছেন বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। প্রত্যাশামতোই টিকিট পেয়েছেন সদ্য তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেওয়া একসময়ের ভাঙড়ের দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম৷ তাঁকে ক্যানিং পূর্ব আসনে প্রার্থী করা হয়েছে৷ এ ছাড়া তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে সদ্য যোগ দেওয়া উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ মফিদুল হক সাহাজিকে দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেও বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন জট অব্যাহত। অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে বামফ্রন্টের আসন নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। সোমবার আইএসএফের পক্ষ থেকে ২৩টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আসনে আগেই প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্ট। আইএসএফ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করায় জোটে ক্ষোভের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে৷ এক সময়ে তৃণমূলের ‘তাজা নেতা’ হিসেবে পরিচিত আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করা নিয়েও জোটের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী ৷
আরাবুলকে প্রার্থী করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৫, ৭ বছর জেল খেটে সংশোধন হয়ে তাঁরা মেইন স্ট্রিমে আসতে চাইছে৷ আরাবুল ইসলামের মতো মানুষকে এতদিন খারাপ জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে। খারাপ করে তোলা হয়েছে৷ সে যদি কৃতকর্মকে ভুল বুঝে সঠিকভাবে চলতে চায়, তাহলে স্বাগত। তাঁর সংশোধন হওয়ার জায়গা আছে। কেউ ভুল করে থাকলে সংশোধন করার সুযোগ তাঁকে দেশের সংবিধানই দিয়েছে। যদি এগুলোকে আমরা ছেড়ে দিই, তাহলে ক্ষতি ছাড়া সমাজের ভালো হবে না৷ অনেক খারাপ লোককেও কাউন্সেলিং করে দলে নেওয়া হয়েছে। কেউ ভুল করে থাকলে সংশোধন করার সুযোগ তাঁকে দেশের সংবিধানই দিয়েছে।’
নওশাদ আরও বলেন, ‘যাঁদের দিয়ে খারাপ কাজ করানো হয়েছে, তাদের ভাল করতে হবে। সে জন্য কাউন্সেলিং টিম রয়েছে আইএসএফের। আমাদের টিম সমীক্ষা চালিয়েছে৷ বিভিন্ন দলে যাঁদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আছে, আর যাঁরা খুব খারাপ এলিমেন্ট, তাঁদের মানসিক কাউন্সেলিং করে আমাদের দিকে আনা যায় কি না সেটা দেখছি ৷ যে কয়েকজন সংখ্যালঘুর জন্য সাড়ে তিন কোটি সংখ্যালঘুর বদনাম হয়, তাঁদেরও নিজেদের দিকে টেনে মেইন স্ট্রিমে নিয়ে আসব৷ দায়িত্বশীল নাগরিক করে তুলব আমরা অলটারনেটিভ পলিটিক্স কীভাবে দেব দেখতে থাকুন৷’
উত্তর ২৪ পরগনার করেকটি আসন নিয়ে এখনও জট কাটেনি। এই প্রসঙ্গে নওশাদ বলেন, ‘৭ মাস ধরে আলোচনা হয়েছে। আর একটা দিন অপেক্ষা করব। বুধবার দ্বিতীয় তালিকা ঘোষণা করব।’ মুরারই, পাঁশকুড়া পশ্চিম এবং নন্দীগ্রামে বামফ্রন্ট প্রার্থী দিয়েছে। তারপরও এই তিন কেন্দ্রে আইএসএফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নওশাদের দাবি, যে ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তা বামেদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনা আমডাঙায় তৃণমূল প্রার্থী করেছে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকিকে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পীরজাদার বিরুদ্ধেও প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ। সেখানে লড়াই করছেন দলের সম্পাদক বিশ্বজিৎ মাইতি। দলের চেয়ারম্যান হিসাবে দলীয় প্রার্থীর হয়ে পীরজাদা কাশেমের বিরুদ্ধেও প্রচারে যাবেন বলে জানিয়েছেন নওশাদ। প্রথম পর্যায়ে যে ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আইএসএফ, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ কারিমুল্লাহ হক (মালদহের সুজাপুর), সামসুর আলি মল্লিক (নদিয়ার পলাশিপাড়া), জাকির মণ্ডল (নদিয়ার চাপড়া)। উত্তর ২৪ পরগনার সাতটি কেন্দ্রে লড়ার কথা জানিয়েছে আইএসএফ। বাদুড়িয়ায় মওলানা মহম্মদ কুতুবুদ্দিন ফাতেহি, অশোকনগরে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙায় বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামে প্রিয়াঙ্কা বর্মন, দেগঙ্গায় মোহাম্মদ মফিদুল হক সাহাজি, হাওড়ায় পিয়ারুল ইসলাম, বসিরহাট উত্তরে মহম্মদ মুসা কারিমুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে আব্দুল মালেক মোল্লা, ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, ক্যানিং পূর্বে আরাবুল ইসলাম, মগরাহাট পশ্চিমে আব্দুল আজিজ আল হাসান এবং ভাঙড়ে নওশাদ সিদ্দিকী।
হুগলির হরিপালে আইএসএফ প্রার্থী করেছে শেখ মুজাফ্ফর আলি ওরফে মাজাকে। খানকুলে টিকিট পেয়েছেন শেখ সাদ্দাম হোসেন। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে আফজল আলি শাহকে। নন্দীগ্রামে টিকিট দেওয়া হয়েছে মৌলানা মহম্মদ শবে মিরাজ খানকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে পীযূষ হাঁসদা, পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনিতে বিশ্বজিৎ বাউড়ি, বীরভূমের বোলপুরে অধ্যাপক বাপি সরেন এবং মুরারইতে হজরত আলি (সওদাগর) আইএসএফের প্রার্থী।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক আইএসএফের প্রার্থী তালিকা
● সুজাপুর — মহম্মদ কারিমুল্লাহ হক
● পলাশীপাড়া — সামসুর আলি মল্লিক
● চাপড়া — জাকির মণ্ডল
● বাদুড়িয়া — মওলানা মহম্মদ কুতুবুদ্দিন ফাতেহি
● অশোকনগর — তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়
● আমডাঙ্গা — বিশ্বজিৎ মাইতি
● মধ্যমগ্রাম — প্রিয়াঙ্কা বর্মণ
● দেগঙ্গা — মহম্মদ মফিদুল হক সাহাজি (মিন্টু)
● হাড়োয়া — পিয়ারুল ইসলাম
● বসিরহাট উত্তর — মহম্মদ মুসা কারিমুল্লাহ
● কুলপি — আবদুল মালেক মোল্লা
● ক্যানিং পশ্চিম (সংরক্ষিত) — প্রবীর মণ্ডল
● ক্যানিং পূর্ব — আরাবুল ইসলাম
● মগরাহাট পশ্চিম — আবদুল আজিজ আল হাসান
● ভাঙড় — পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী
● হরিপাল — শেখ মুজাফফার আলি (মাজা)
● খানাকুল — শেখ সাদ্দাম হোসেন
● পাঁশকুড়া পশ্চিম — আফজল আলি শা
● নন্দীগ্রাম — মওলানা মহম্মদ শবে মিরাজ খান
● শালবনী — পীযুষ হাঁসদা
● বারাবনি — বিশ্বজিৎ বাউড়ি (বাপি)
● বোলপুর — বাপি সোরেন
● মুরারই — হজরত আলি (সওদাগর)