রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সোমবারই আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি ও বামফ্রন্ট। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। কালীঘাটের বাসভবন থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে রাজ্যের ২৯৪টি আসনেরই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাননি। এবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই লড়াই করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন মমতা৷ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বাজিমাত করেন বিজেপি–র শুভেন্দু। ১৯৫৬ ভোটে তিনি জয়ী হন। এবার দুটি কেন্দ্রে লড়াই করছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ছাড়াও ভবানীপুরে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন। এবার আবার মমতা–শুভেন্দুর মুখোমুখি লড়াই হবে ভবানীপুরে৷ আর নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে একদা শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া পবিত্র করকে ৷
বয়স ও পারফরমেন্সের নিরিখে এবার বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হতে পারে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এমন আভাস পাওয়া গিয়েছিল। বাস্তবে তাই–ই হয়েছে। আগের বারের ৭৪ জন বিধায়ক এবার টিকিট পাননি। ১৫ জন বিধায়কের কেন্দ্র পরিবর্তন হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তেওয়ারি যেমন বাদ পড়েছেন, তেমনই টিকিট পাননি শোভন চ্যাটার্জি, অসিত মজুমদার, পার্থ চ্যাটার্জিরা।
বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মনোরঞ্জন ব্যাপারী (বলাগড়), সাবিত্রী মিত্র (মানিকচক), সৌমেন মহাপাত্র (তমলুক), কাঞ্চন মল্লিক (উত্তরপাড়া), মঞ্জু বসু (নোয়াপাড়া), দুলাল দাস (মহেশতলা), সূর্য অট্ট (নারায়ণগড়), অসিত মজুমদার (চুঁচুড়া), চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (বারাসত), নির্মল ঘোষ (পানিহাটি), বিবেক গুপ্ত (জোড়াসাঁকো), মানিক ভট্টাচার্য (পলাশিপাড়া), জীবনকৃষ্ণ সাহা (বড়ঞা)। চার মন্ত্রীও বাদ পড়েছেন। তাঁরা হলেন মনোজ তেওয়ারি (হাওড়ার শিবপুর), বিপ্লব রায়চৌধুরী (পাঁশকুড়া-পূর্ব), জোৎস্না মান্ডি (রানিবাঁধ) এবং তাজমুল হোসেন (হরিশ্চন্দ্রপুর) ।
কেন্দ্র বদল হওয়া বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন শওকত মোল্লা (ক্যানিং পূর্ব থেকে ভাঙড়), রানা চট্টোপাধ্যায় (বালি থেকে শিবপুর), রত্না চট্টোপাধ্যায় (বেহালা পূর্ব থেকে বেহালা পশ্চিম), প্রাক্তন পুলিশকর্তা হুমায়ুন কবীর (ডেবরা থেকে ডোমকল), বিদেশ বসু (উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে সপ্তগ্রাম), সোহম চক্রবর্তী (চণ্ডীপুর থেকে করিমপুর) এবং রুকবানুর রহমান (চাপড়া থেকে পলাশিপাড়া)। মূলত পারফরমেন্সের ভিত্তিতেই এবার প্রার্থী নির্বাচন করেছে তৃণমূল।