নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের উপদেষ্টা ডাঃ জাহিদ উর রহমানকে। অভিবাসন যাচাইয়ের জন্য তাঁকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। জাহিদ উরকে আটকে রাখার ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার পবন বাধেকে তলব করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
১৫–১৬ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)–এর ২৮তম সিনিয়র অফিসিয়ালস বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার সন্ধেয় দিল্লিতে এসে পৌঁছন জাহিদ উর রহমান। তিনি একটা বাংলাদেশী প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। জানা গেছে, নজরদারি তালিকায় নাম থাকায় তাঁর আগমনে বিলম্ব হয়। ভারতীয় কর্মকর্তারা জাহিদ উরকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত অভিবাসন যাচাইয়ের সময় ডাঃ রহমানের নাম চিহ্নিত হয়। যার জন্য তাঁকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা সহজেই অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গন্তব্যে চলে যান।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ সেই সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন এবং ভারতীয় অভিবাসন দফতরের কর্মকর্তাদের কাছে ডঃ জাহিদ উর রহমানের পরিচয় দেন। ভারতীয় কর্মকর্তাদের আগে থেকেই জানানো হয়েছিল যে তিনিই প্রতিনিধিদলের প্রধান। তা সত্ত্বেও তাঁকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ডাঃ জাহিদ উর রহমান ভারত সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন এবং কর্মকর্তাদের জানান যে তিনি ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন। তবে, ভারতীয় অভিবাসন দফতরের কর্মকর্তারা পরে তাঁকে জানান যে, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে এবং তাঁকে বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু জাহিদ উর রহমান ভারতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে যান।
জাহিদ উর রহমান সার্ক ভিসা স্টিকারযুক্ত একটা সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য উপলব্ধ। তাঁর কোনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল না। তাই তাঁকে সাধারণ অভিবাসন যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনও কারণে নিরাপত্তা ডেটাবেসে তাঁর নাম চলে আসতে পারে।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার পবন বাধেকে তলব করে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ খলিলুর রহমান পরিস্থিতিটিকে অপ্রত্যাশিত ও দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
চিকিৎসক থেকে নীতি উপদেষ্টা ও সুপরিচিত ভাষ্যকার জাহিদুর রহমান সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে সরকারে যোগদান করেছেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য আইওআরএ বৈঠকে তাঁর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যরা পরিকল্পনা অনুযায়ী বৈঠকে যোগদান করেন।