নিট পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তরুণ, অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকার। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে তিনি বলেছেন, কঠোর পরিশ্রমকে সম্মান করা উচিত, সততাকে উৎসাহিত করা উচিত এবং মেধারই জয় হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের হতাশাকে স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করে শচীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আবেদন জানিয়েছেন, যা তরুণদের আত্মবিশ্বাস এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি করবে।
শচীন এক্স–এ এক পোস্টে তাঁর বাবার কাছ থেকে পাওয়া একটা শিক্ষার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি অনেক তরুণ ছাত্রের পরামর্শদাতা ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি খুব অল্প বয়সেই যে শিক্ষাটি দিয়েছিলেন তা হল, ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা করা ঠিক নয়। কখনও শর্টকাট রাস্তা নিও না।’ শচীন বলেছেন যে, এই শিক্ষাই তাঁর জীবনের ভিত্তি এবং আজও তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
ভারতের এই প্রাক্তন ব্যাটসম্যান আরো বলেছেন, সমাজের দায়িত্ব শুধু ভাল ফলাফল দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। যদি কোনও সমাজ কঠোর পরিশ্রমের চেয়ে ফলাফলকে বেশি প্রাধান্য দেয়, তবে তা যোগ্যতার ওপর মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে সহজ পথ বেছে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি করবে। তিনি বলেন, এই ধরনের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করাই এখন সময়ের দাবি।
শিক্ষার্থীদের হতাশাকে স্বাভাবিক আখ্যা দিয়েছেন শচীন। তিনি বলেন, ‘যখন শিক্ষার্থীরা মনে করে তাদের কঠোর পরিশ্রম যথাযথভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে না, তখন তাদের হতাশা সম্পূর্ণ বোধগম্য। তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি অংশের, অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, বিদ্যালয় এবং প্রশাসনের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে।’ সরকার ও সমাজের প্রতি আবেদন জানিয়ে শচীন তাঁর বার্তায় বলেছেন, ‘এমন একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রম যথাযথ স্বীকৃতি পাবে, সততা উৎসাহিত হবে এবং মেধার জয় হবে।’ তাঁর বিশ্বাস, দেশ সম্মিলিতভাবে এমন একটা সমাধান খুঁজে বের করবে যা শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে এবং তাদের স্বপ্নকে রক্ষা করবে।
শচীনের পাশাপাশি ভারতীয় টেস্ট ও একদিনের দলের অধিনায়ক শুভমান গিলও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের ইনস্টাগ্রামে ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক তরুণেরই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। একজন তরুণ ভারতীয় হিসেবে তিনি আমি বিশ্বাস করি এই প্রজন্মের প্রত্যেক তরুণেরই শেখার, স্বপ্ন দেখার এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পাওয়া উচিত।’ শান্তিপূর্ণভাবে আওয়াজ তোলা তরুণদের প্রতি সম্মান জানিয়ে শুভমান আরও বলেছেন, ‘শিক্ষাই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।’ তাঁর আশা, সহানুভূতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সর্বোত্তম স্বার্থকে মাথায় রেখে দেশ এগিয়ে যাবে।
নিট পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রীরা দেশজুড়ে ক্রমাগত বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় কথিত ত্রুটির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শচীন ও শুভমান এই ধরণের মন্তব্য করেছেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি, অন্যদিকে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও অনশনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। অনশনের সময় স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে ওয়াংচুককে প্রথমে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে এবং পরে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০ জুলাই হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী সংসদ অভিযান শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের থামাতে দিল্লি পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জও করে। অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন।