অপেক্ষার পালা সমাপ্ত। নতুন সরকার গড়ার লক্ষ্যে বাংলায় শুরু হচ্ছে মহাযুদ্ধ৷ বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। প্রথম দফায় রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, সব জায়গায় সাজো সাজো রব। প্রথম দফার এই ভোটযুদ্ধে নির্ধারিত হবে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ৷
প্রথম দফার ভোটে সকলের নজর নন্দীগ্রামের দিকে। এই বিধানসভা আসনে লড়াই করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ গত নির্বাচনে এই বিধানসভা আসনে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। পরে ভবানীপুরে উপনির্বাচনে জেতেন মমতা। এবার শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের বাজি পবিত্র কর৷ একসময় তিনি শুভেন্দুর সহযোগী ছিলেন। নির্বাচনের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন পবিত্র কর।
শুভেন্দু অধিকারী ছানাও আসানসোলে বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল বনাম তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইও বেশ উত্তেজনাপূর্ণ৷ খড়গপুর সদরে আবারও ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন দিলীপ ঘোষ৷ উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের মাথাভাঙায় নিশীথ প্রামাণিক এবং দিনহাটায় রাজ্যের বিদায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা লড়াই করছেন। তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী ও জেলা সভাপতিদেরও অগ্নিপরীক্ষা প্রথম দফার ভোটেই ৷
প্রথম দফার ভোটে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনে নজর বিজেপির। এটাই তাদের শক্তিশালী জায়গা। এর মধ্যে রয়েছে ডুয়ার্স এবং তরাইয়ের চা শ্রমিকদের ভোট৷ অন্যদিকে, কোচবিহার–জলপাইগুড়ির রাজবংশী ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার জন্য দুই শিবিরই মরিয়া৷ রাজনৈতিক মহলের ধারণা, উত্তরবঙ্গে যে দল বেশি আসন পাবে, তারাই সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রথম দফার নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে করতে নির্বাচন কমিশন কোমর বেঁধে নেমেছে৷ নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে কমিশন। ১৫২টি আসনের জন্য ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথেই থাকছে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোন এবং সিসিটিভি–র মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে৷ কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, ভোটারদের ভয় দেখানো বা বুথ জ্যামের অভিযোগ এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলিতে কুইক রেসপন্স টিম এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ টহলদারি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ৷
এরই মাঝে জেলার বেশ কিছু জায়গায় ভোটকর্মীদের বিক্ষোভের ছবিও ধরা পড়েছে ৷ অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে কোচবিহারের মাথাভাঙাতে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ভোট কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, ভোট কর্মীরা ২–৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও তাঁদের জন্য কোনও গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে৷ এর ফলে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে যেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
চরম অব্যবস্থার অভিযোগ মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরেও। ডিসিআরসি কেন্দ্রে পাখার ব্যবস্থা নেই। ক্ষোভ উগড়ে দেন ভোটকর্মীরা। গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। ভোটকর্মীদের একাংশের দাবি, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের আগে অন্তত ন্যূনতম ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল৷