রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য গত বুধবার তৃতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল বিজেপি। আজ চতুর্থ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। মঙ্গলবার ঘোষিত তালিকায় ১৩ জনের নাম রয়েছে। এখনও ৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি। চতুর্থ তালিকায় যেমন রয়েছেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সন্তোষ পাঠক, তেমনই রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। তাঁকে বাগদায় টিকিট দিয়েছে বিজেপি। অর্থাৎ বাগদা কেন্দ্রে বৌদি বনাম ননদের লড়াই।
তৃতীয় দফায় ১৯ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। বাকি ছিল আরো ১৯ আসনের প্রার্থী তালিকা। কিন্তু এদিন ১৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বিজেপি–র কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির পক্ষ থেকে এই তালিকা অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি আগের তালিকায় ঘোষিত একটা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করেছে বিজেপি। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি (সংরক্ষিত) আসনে আগে কৌশিক রায়ের নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। কিন্তু স্থানীয় নেতাদের বিক্ষোভে প্রার্থী বদল করতে বাধ্য হয়েছে৷ এই কেন্দ্রে কোশিক রায়ের পরিবর্তে ডালিম রায়কে প্রার্থী করল বিজেপি। বিজেপি–র চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকায় দুটি চমক। কংগ্রেস থেকে সদ্য বিজেপি–তে যোগ দেওয়া সন্তোষ পাঠককে চৌরঙ্গি কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। ভোটের ময়দানে এবার কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। অন্যদিকে, এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী মমতা ঠাকুরের কন্যা তথা বিদায়ী বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর। তিনিও ঠাকুরবাড়ির সদস্য। সম্পর্কে শান্তনু ঠাকুরের জ্যাঠতুতো বোন। অর্থাৎ বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রে ননদ–বৌদির লড়াই।
সোনারপুর উত্তর কেন্দ্র সকলের নজর রয়েছে। এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে দেবাশিস ধরকে। এছাড়া সিতাই (সংরক্ষিত) আসনে প্রার্থী আশুতোষ বর্মা, নাটাবাড়িতে গিরিজা শঙ্কর রায়, মগরাহাট পূর্বে (সংরক্ষিত) উত্তম কুমার বণিক, ফলতায় দেবাংশু পান্ডা, হাওড়া দক্ষিণে শ্যামল হাতি, পাঁচলায় রঞ্জন কুমার পাল, চণ্ডীপুরে পীযূষ কান্তি দাস, গড়বেতায় প্রদীপ লোধা, মেমারিতে মানব গুহ, বারাবনিতে অরিজিৎ রায় ।
এদিক সমর্থকেদর বিক্ষোভের জেরে ময়নাগুড়ি আসনে প্রার্থী বদল করল বিজেপি। বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়ের নাম ঘোষণার পর থেকেই দলীয় কর্মীরা ময়নাগুড়ি পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিজেপির জেলা সভাপতিকে ঘিরেও বিক্ষোভ চলে। দলীয় প্রার্থীর হয়ে বিজেপির ময়নাগুড়ির স্থানীয় নেতারা প্রচারে নামেননি। কৌশিক রায় নিজেই প্রচার শুরু করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে কর্মী–সমর্থকদের দাবি মেনে ডালিম রায়কে প্রার্থী করল বিজেপি।