দেশের স্বাধীনতায় গুজরাটিতে অবদান কোথায়? গুজরাটিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আর সেই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। মহুয়া মৈত্রর এই বিতর্কিত মন্তব্যকে লুফে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষের রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে দেখে বুধবার সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমা চাইল তৃণমূল৷ তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দল মহুয়া মৈত্রর মন্তব্যকে সমর্থন করে না।
গত শনিবার বিজেপির পক্ষ থেকে চার্জশিট প্রকাশ করা হয়৷ সেই চার্জশিটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ তোলা হয়। সেই অভিযোগের জবাব দিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন ব্রাত্য বসু এবং মহুয়া মৈত্র৷ সেই সাংবাদিক বৈঠকে মহুয়া মৈত্র দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুজরাটিদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, গুজরাটিও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেননি।
সাংবাদিক বৈঠকে মহুয়া বলেন, ‘বাঙালিরা গর্বিত জাতি৷ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে আমরাই নেতৃত্ব দিয়েছি। গুজরাটিরা কোথায় ছিল? কালাপানির ইতিহাস দেখুন, কাদের দেখতে পাবেন? কালাপানিতে যাঁদের হত্যা করা হয়েছিল, বন্দি করে রাখা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বাঙালি ছিলেন৷ তারপরেই ছিলেন পাঞ্জাবিরা৷ একটাও গুজরাটি দেখাতে পারবেন? কেবলমাত্র বীর সাভারকর, যিনি শুধুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা করে চিঠি লিখতেন।’
মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নির্বাচনের আগে যা চরম অস্বস্তিতে ফেলে তৃণমূলকে৷ মহুয়ার গুজরাটিদের নিয়ে মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনে প্রচারে নেমে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী৷ তৃণমূলের বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষের রাজনীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন। মহুয়া মৈত্রর বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করেছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি গুজরাটি হিসাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে মহাত্মা গান্ধী ও সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি৷ পোস্টে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘নির্লজ্জতার চূড়ান্ত! বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কৌশলগত বিভাজন তৈরি এবং বিদ্বেষ উস্কে দেওয়ার টিএমসি–র সংস্কৃতি নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। শ্রীমতি মহুয়া মৈত্র, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় তৃণমূল সাংসদ, কেবল গুজরাটি সম্প্রদায়কেই অপমান করেননি, বরং ভারতের আত্মাকে অপমান করেছেন৷’
স্বাধীনতা সংগ্রামে গুজরাটিদের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু আরও লিখেছেন, ‘গুজরাটিদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে, কেবল ওই জাতির অপমান করেননি মহুয়া মৈত্র। সেই সঙ্গে সরাসরি মহাত্মা গান্ধী এবং ‘লৌহ মানব’ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অবদান ও মহিমাকে অসম্মান করেছেন৷ এখানেই বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ফারাক। তৃণমূল বেঁচে আছে বিভাজনের নীতিতে।’
এরপরই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়ে তৃণমূল। দলের নেতা কুণাল ঘোষ তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে মহুয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘আমি এর তীব্র বিরোধিতা করছি৷ এটা তাঁর ব্যক্তিগত মত৷ আমাদের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী গুজরাটের সন্তান৷ আমরা কোনও ধরনের প্রাদেশিকতায় বিশ্বাস করি না৷ গুজরাটের সঙ্গে অনেক বাঙালির কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক রয়েছে৷ তাই রাজ্য হিসেবে গুজরাট এবং সেখানকার মানুষদের আমরা সম্মান করি।’