রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের আগে বড় ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের। রাজ্য বাজেটে জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘লক্ষ্মী ভান্ডার’–এ টাকার অঙ্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলার যুবসাথী’ নামে নতুন প্রকল্পও চালু করা হয়েছে। এছাড়া আশাকর্মী থেকে শুরু করে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক ভলেন্টিয়ার, পার্শ্ব শিক্ষক, শিক্ষাবন্ধু, ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশের ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা ৪ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য লক্ষ্মী ভান্ডারের পাশাপাশি অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করে যে বাজেট পেশ করেছেন সেই ঘোষণাকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কার্যত মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ ক্যাটাগরির মহিলারা বর্তমানে লক্ষ্মী ভান্ডারে ভাতা পান ১০০০ টাকা করে। সেটা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০০ টাকা হল। এসসি বা তফশিলি জাতি, এসটি অর্থাৎ তফশিলি উপজাতির মহিলারা পান ১২০০ টাকা করে। সেটা বৃদ্ধি পেয়ে ১৭০০ টাকা হল। ২০২৬–এর ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ চলতি মাস থেকেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকার অঙ্কে বদল কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভাতা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের ঠিক আগে ভাতা বাড়ানো হয়। এপ্রিল থেকেই তা কার্যকর হয় এবং ভোট চলাকালীনই সেই বাড়তি মূল্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। রাজনীতিতে একাংশের বক্তব্য লোকসভা ভোটে গ্রাম বাংলায় তৃণমূলের ভাল ফলের নেপথ্যে ছিল ভাতা বৃদ্ধির এই মোক্ষম অস্ত্রটি।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি। তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই লক্ষ্মী ভান্ডারের উপভোক্তা। অর্থাৎ অনায়াসে এটা অনুমান করাই যায় মহিলা ভোটারদের সংখ্যা জয়তুল্য করতে এই বড় পদক্ষেপ। বিরোধী দলগুলি ভাতা বৃদ্ধির এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ যুক্তি দিয়ে বলেছে এটি ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’। চার মাসের জন্য সাংবিধানিক নীতি মেনে এটি প্রযোজ্য হলেও ভোট পরবর্তীকালে জয়ী দল এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেই পারে।
রাজ্য বাজেটে একটা নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক–যুবতীদের জন্য নূন্যতম মাধ্যমিক পাশের যোগ্যতায় সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত সরকার ১৫০০ টাকা করে মাসিক ভাতা দেবে। পার্শ্ব–শিক্ষক, শিক্ষাবন্ধু, সহায়ক–সহায়িকা, সিভিক ভলেন্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশ, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়কদের ১ হাজার টাকা করে ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, আসন্ন নির্বাচনে এই ভাতা দ্ধি দলকে কতটা সাফল্য এনে দেবে? ২০২১ওএর মতো ২০২৬ এও কি ১০০ টিরও বেশি সামাজিক প্রকল্প ঘোষণা করা ভাতা কেন্দ্রিক সরকারকে বাংলার মানুষ পুনরায় ক্ষমতায় রাখতে চান কিনা সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই ভাতা বৃদ্ধি রাজ্যের করের বোঝা আরও বাড়াবে, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।