১৯৮৯ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সঈদের মেয়ে রুবাইয়া সঈদ অপহরণের ঘটনায় ৩৬ বছর পর একজনকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো। সোমবার শ্রীনগর থেকে শাফাত আহমেদ শুংলু নামে সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাক্ষ্য এবং রুবাইয়া সঈদের বক্তব্যের ভিত্তিতে চার্জশিটে ওই ব্যক্তির নাম ছিল। পলাতক শুংলুর মাথার ওপর ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল সিবিআই। আজ তাকে জম্মুর টাডা আদালতে হাজির করা হবে।
১৯৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর রুবাইয়া সঈদ শ্রীনগরের লাল চকের হাসপাতাল থেকে অন্যান্য দিনের মতো নওগাঁয় নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁকে অপহরণ করা হয়। রুবাইয়াকে অপহরণের ২ ঘন্টা পর মুফতি মহম্মদ সঈদ একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কাছ থেকে একটা ফোন কল পান। সেই ফোনে তাঁকে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। মুফতি মহম্মদ সঈদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিন পরই এই ঘটনাটি ঘটে।
এরপর
রুবাইয়ার মুক্তির বিনিময়ে সন্ত্রাসীরা সরকারের কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করে। সন্ত্রাসীদের দাবি ছিল, গ্রেফতার হওয়া তাদের ৫ জন সঙ্গীকে মুক্তি দিতে হবে। সন্ত্রাসীদের এই দাবির কাছে তৎকালীন ভিপি সিং সরকার প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়ে। একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মেয়ে অপহরণ, অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের মুক্তির দাবি। রুবাইয়ার মুক্তির বিনিময়ে সন্ত্রাসীদের মুক্তির অর্থ ছিল দেশকে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার মুখে ঠেলে দেওয়া।
আরও পড়ুনঃ সামাজিক ক্ষমতায়নের যুগান্তকারী পদক্ষেপ, হিজড়েদের নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে নিয়োগ করল হায়দরাবাদ মেট্রো রেল
পাঁচ দিনের আলোচনা, বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার পর অবশেষে ১৩ ডিসেম্বর সরকার সন্ত্রাসীদের দাবি মেনে নেয় এবং ৫ সন্ত্রাসীকে মুক্তি দেয়। বিনিময়ে সন্ত্রাসীরে মুফতি মহম্মদের তৃতীয় মেয়ে রুবাইয়াকে মুক্তি দেয়। এই প্রথম দেশের কোনও সরকার অপহরণের বিনিময়ে সন্ত্রাসীদের মুক্তি দেয়। যার পরিনাম কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের আরও বৃদ্ধি। অনেকেই এই সন্ত্রাসী মুক্তির ব্যাপারটাকে ভারতে সন্ত্রাসবাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করেন।
জম্মু ও কাশ্মীরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ জঙ্গিদের মুক্তির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে মুক্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের মধ্যে কয়েকজন ১৯৯৯ সালে কান্দাহারগামী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি–১৪ ছিনতাইয়ে অংশ নিয়েছিল। আইসি ৮১৪ হাইজ্যাকিংয়ের সময় আরেকটি বিতর্কিত বিনিময়ের সময় তিনিও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
১৯৯০ সালে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) মামলাটি নিজেদের হাতে তুলে নেয় এবং অপহরণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত জম্মু–কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের ইয়াসিন মালিক এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুরষ্কার ঘোষণা করে। ২০২৩ সালের মে মাসে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান দেওয়ার মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) এক বিশেষ আদালতে সাজা পেয়ে ইয়াসিন মালিক এখন তিহার জেলে বন্দি। ২০২৩ সালে অপহরণের এক প্রত্যক্ষদর্শী ইয়াসিন মালিক এবং আর এক অভিযুক্ত মহম্মদ জামানকে আদালতে শনাক্ত করেন। মামলাটি এখনও জম্মুতে ১৯৮৭ সালের সন্ত্রাসবাদী ও বিঘ্নকারী কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের (টাডা) অধীনে টাডা আদালতে চলছে। বর্তমানে তামিলনাড়ুতে বসবাসী রুবাইয়া সঈদকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে সিবিআই।