গুলি করে হত্যা করা হল উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক স্কুল শিক্ষককে। ওই শিক্ষকের নাম রাও দানিশ আলি। ১১ বছর ধরে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এবিকে হাই স্কুলে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়াতের তিনি। বুধবার রাতে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
দুই সহকর্মীর সঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে বেড়াতে বার হচ্ছিলেন দানিশ। ঠিক তখনই রাত ৮.৫০ মিনিটে স্কুটারে করে আসা দুই ব্যক্তি তাঁদের রাস্তা আটকায়। এরপর পিস্তল বার করে রাওয়ের মাথায় তিনবার গুলি চালায়। এরপর দুই সহকর্মী রাওকে দ্রুত জওহরলাল নেহেরু মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কাছে এই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটে।
এই খুনের ঘটনার তদন্তের জন্য ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুনিদের শনাক্ত করতে এবং খুঁজে বার করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আলিগড় মুসলিমম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর মহম্মদ ওয়াসিম আলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে খবর পাই, লাইব্রেরির কাছে গুলি চালানো হয়েছে এবং একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে জানতে পারি গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি দানিশ আলি। তিনি এবিকে স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর মাথায় গুলি লেগেছে। মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।’
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলার কয়েক ঘন্টা পরেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিজেপি–র এই নেতা রাজ্য বিধানসভায় বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নিরাপত্তার পরিবেশ অপরিহার্য। আজ প্রতিটি ব্যক্তি বলতে পারেন উত্তর প্রদেশে উন্নত নিরাপত্তা পরিবেশের কারণে বিনিয়োগ আসছে।’
সমাজবাদী পার্টির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সমাজবাদী পার্টি ছিন্নভিন্ন এবং অসংগঠিত হয়ে পড়েছে। এটা সমগ্র রাজ্যের জন্য পরিচয় সংকট তৈরি করেছে। যে নৈরাজ্যের নৃত্য শুরু হয়েছিল তার জন্য কে দায়ী? উত্তর প্রদেশে আইনের শাসন দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রয়েছে এবং কোনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি।’