বায়ু দূষণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। রবিবার বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন সাধারন মানুষ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। লঙ্কার গুড়ো দিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে ৪ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। সবথেকে অবাক করার বিষয়, বিক্ষোভ চলাকালীন গত সপ্তাহে অন্ধ্র প্রদেশে পুলিশ এনকাউন্টারে নিহত শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার মাদভি হিদমার পোস্টার প্রদর্শন করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জাতীয় রাজধানীতে বায়ু দূষণের উদ্বেগজনক মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য দিল্লি সরকারের তথাকথিত ‘প্রসাধনী ব্যবস্থা’ যেমন জল ছেটানো, মেঘের বীজ বপনের বিরুদ্ধে দিল্লি সমন্বয় কমিটি এই প্রতিবাদের আয়োজন করেছিল। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে ইন্ডিয়া গেটের সামনে যান চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা তাদের ওপর লঙ্কার গুঁড়ো স্প্রে করে। এতে ৪ জন পুলিশকর্মী আহত হন। তাঁদের রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য, বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু লোক সি–হেক্সাগন এলাকায় প্রবেশ করে এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ বারবার বিক্ষোভকারীদের কাছে আবেদন জানায়, তাদের অবস্থান কর্মসূচি অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিৎসা কর্মীদের পথ আটকে দিচ্ছে। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে পথ প্রশস্ত করতে হবে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় বসে পড়ে। পুলিশ যখন তাদের সরিয়ে দিতে শুরু করে, তখন হঠাৎ করেই কেউ কেউ মরিচের স্প্রে ব্যবহার করে, যার ফলে উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের চোখ এবং মুখ মারাত্মকভাবে জ্বলে যায়।
আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার প্রত্যার্পন চেয়ে ভারতকে চিঠি পাঠাল বাংলাদেশ, না পেলে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত
দিল্লির ডিসিপি দেবেশ কুমার মাহালা বলেন, ‘ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশের ওপর লঙ্কা গুঁড়োর স্প্রে ব্যবহার করা এই প্রথম। ট্র্যাফিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তাদের ওপর এই ধরণের আক্রমণ অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক। আইনি ব্যবস্থা শুরু করা হয়েছে।’ ঘটনার পর পুলিশ সি-হেক্সাগন এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।