দু’ডজন অবৈধ অস্ত্র, লক্ষ লক্ষ নগদ অর্থ, অবৈধ মদ, মাদক এবং চুরি যাওয়া জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছে দিল্লি পুলিশ।
নববর্ষ উদযাপনের সময় নাশকতা ঘিরে সতর্ক দিল্লি প্রশাসন। নতুন বছরের উদযাপনের প্রস্তুতির আগে শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে কয়েকশ জনকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। ‘অপারেশন আঘাট ৩.০’–এর অধীনে আগাম পদক্ষেপে দিল্লি পুলিশ দক্ষিণ–পূর্ব জেলা থেকে প্রায় দু’ডজন অবৈধ অস্ত্র, লক্ষ লক্ষ নগদ অর্থ, অবৈধ মদ, মাদক এবং চুরি যাওয়া জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে।
উৎসবের সময় অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে দিল্লি পুলিশ এই অভিযান চালায়। ঝামেলা সৃষ্টির জন্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করে আটক করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে দিল্লি পুলিশের যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, কঠোর নিরাপত্তা অভিযানের সময় ২৮৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অস্ত্র আইন, আবগারি আইন, এনডিপিএস আইন এবং জুয়া আইনের বিধানসহ বিভিন্ন আইনের ধারায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও, নববর্ষ উদযাপন অপরাধমুক্ত করতে ৫০৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ বিভিন্ন অভিযুক্তের কাছ থেকে ২১টি দেশীয় তৈরি পিস্তল, ২০টি তাজা কার্তুজ এবং ২৭টি ছুরি, ২৭টি গাড়ি, ১২ হাজারেরও বেশি মদের বোতল, প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নগদ এবং ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ‘অপারেশন আঘাট ৩.০’–এর অধীনে, প্রায় ১১৬ জন অপরাধীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অবৈধ অর্থ সংগ্রহের জন্য ১০ জন অপরাধীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে হামলা, আহত ২০, বাতিল জেমসের কনসার্ট
এই অভিযানে যানবাহন চুরির নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার ওপরও জোর দিয়েছে দিল্লি পুলিস। উৎসবের সময়ে যাতে কোনও ঝামেলা না হয়, সেজন্য নেটওয়ার্কের ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও, অভিযানের সময় ২৩১টি দুই চাকার গাড়ি এবং একটা চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ নগদ ২.৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে। প্রায় ২১০টি চুরি যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও, পুলিশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অধীনে মোট ১৩০৬ জনকে আটক করেছে।
দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, ‘নববর্ষ উদযাপনের সময় নগরীতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ‘অপারেশন আঘাট ৩.০’ পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কারণ এই সময় ঐতিহ্যগতভাবে অপরাধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।’