মঙ্গলবার রাতে দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাঞ্জাব। তিন ঘণ্টার ব্যবধানে অমৃতসর ও জলন্ধরে এই দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। অমৃতসরের খাসা সেনা ছাউনি এলাকার বাইরে গভীর রাতে একটা বিস্ফোরণ ঘটে। তার আগে, জলন্ধরে বিএসএফ সদর দফতরের বাইরে একটা স্কুটারে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। জলন্ধরের বিস্ফোরণটি সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। এই দুটি বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পাঞ্জাবকে আতঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র কারা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রথম বিস্ফোরমের ঘটনাটি ঘটে রাত ৮ টা নাগাদ। জলন্ধরে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সদর দফতরের প্রধান ফটকের বাইরে। গেটের বাইরে পার্ক করা একটা স্কুটারে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন লেগে যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৩০০ মিটার দূর পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রভাব অনুভূত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটা গাড়ির জানালা ও একটা দোকানের কাচ ভেঙে যায়। আরও বেশ কয়েকটা কাচের জানালায় ফাটল দেখা দেয়। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা এক কিলোমিটার দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
জলন্ধর পুলিশ কমিশনার ধনপ্রীত কাউর বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পার্ক করা একটা অ্যাক্টিভা স্কুটারের বিস্ফোরণ ঘটে। আমরা এখনও ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি।’ তিনি আরও জানান, ‘বিস্ফোরণটি কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও আসেনি। আমরা এই মুহূর্তে কোনও কিছুই নিশ্চিত করতে পারছি না। সব দিক থেকে তদন্ত করছি। নতুন কোনও তথ্য সামনে এলে জানাবো।’ আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং কারিগরি ত্রুটি ও বাহ্যিক হস্তক্ষেপসহ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জলন্ধরের বিস্ফোরণের প্রায় আড়াই ঘন্টা পরে ১০০ কিলোমিটার দূরে অমৃতসরের আটারি রোডে সেনাবাহিনীর খাসা ক্যাম্পের বাইরের দেওয়ালে আর একটা বিস্ফোরণ ঘটে। অমৃতসর গ্রামীণ থানার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ সুহেল কাসিম মীর বলেন, বিস্ফোরণস্থলের সীমানা প্রাচীরে ধাতব পাতের মতো দেখতে টুকরো পাওয়া গেছে। এর থেকে বোঝা যায়, বাইরের দিক থেকে দেওয়ালের দিকে কেউ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছিল, যার ফলে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, মুখোশধারী দুস্কৃতীরা হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার সঙ্গে জলন্ধরের বিস্ফোরণের কোনও যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু নিশ্চিত করেনি।
বিস্ফোরণের ফলে সেনা এলাকা ঘিরে থাকা সীমানা প্রাচীরের ওপর নির্মিত টিনের ছাউনিগুলো ভেঙে পড়ে। ৬ ও ৭ নম্বর গেটের মধ্যবর্তী প্রাচীরটিও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। মনে করা হচ্ছে, গ্রেনেড দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে একটা বিশেষ দল পাঠিয়েছে। পাঞ্জাব পুলিশের ফরেনসিক দল, ভারতীয় সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড এবং বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞরাও এলাকাটি পরিদর্শন করছেন।
পাঞ্জাব কংগ্রেস প্রধান অমরিন্দর সিং রাজা দাবি করেছেন যে এই বিস্ফোরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে শিরোমণি আকালি দলের নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া সীমান্ত রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাঞ্জাব বিজেপির সাধারণ সম্পাদক পারমিন্দর সিং ব্রার আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘লোকদেখানো ও নাটকীয়তা’ দিয়ে শাসনের বিকল্প হতে পারে না। কংগ্রেস নেতা ও পাঞ্জাবের বিধায়ক প্রতাপ সিং বাজওয়া বলেছেন, ‘জলন্ধরের বিস্ফোরণটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা ও সতর্কতায় গুরুতর ত্রুটি বিষয়টি তুলে ধরে।’