মারা গেলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেত্রী মহসিনা কিদোয়াই। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বুধবার সকালে হাসপাতালেই চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। আজ বিকেল ৩টেয় নয়ডার সেক্টর ৪০–এ অবস্থিত নিজ বাসভবন থেকে মহসিনার মরদেহ শেষযাত্রার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে নিজামুদ্দিন কবরস্থানে দাফন করা হবে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘আজ ভোর ৪টে নাগাদ এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মহসিনা কিদোয়াই। জাতীয় রাজনীতির এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কিদোয়াইয়ের রাজনৈতিক জীবন কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত ছিল। এই সময়ে তিনি দল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি কংগ্রেস দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছিলেন।’
উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির বাসিন্দা মহসিনা কিদোয়াই ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীর সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (সিডব্লিউসি) এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। হজ কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছেন মহসিনা কিদোয়াই, যেখানে তিনি প্রতি বছর হজ পালনকারী ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য আয়োজনের তত্ত্বাবধান করতেন।
উত্তরপ্রদেশের মিরাট আসন থেকে ষষ্ঠ লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন মহসিনা কিদোয়াই। তিনি সপ্তম ও অষ্টম লোকসভা নির্বাচনেও মিরাজ আসন থেকে জয়লাভ করেন। এরপর ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছত্তিশগড় থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের (১৯৮৪) গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দল ক্ষমতায় এলে তাঁকে প্রথমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর তিনি পরিবহন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার সদস্য এবং মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন মহসিনা কিদোয়াই।
দলীয় নেতা ও সহকর্মীরা মহসিনা কিদওয়াইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁকে একজন নিবেদিতপ্রাণ নেত্রী হিসেবে স্মরণ করেছেন। তিনি তাঁর সমগ্র জীবন জনসেবা ও দলের আদর্শে উৎসর্গ করেছিলেন।। আজ, বুধবার, বিকেল ৩টেয় তাঁর মরদেহ নয়ডার বাসভবন থেকে নিয়ে যাওয়া হবে। বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে নিজামুদ্দিন কবরস্থানে দাফন করা হবে।