মুম্বইয়ে এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় তিন মহিলাসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ৯ জন। ভান্ডুপ (পশ্চিম) স্টেশন রোডে বৃহন্নুম্বই ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট আন্ডারটেকিংয়ের (বেস্ট) একটা বাস বেশ কয়েকজনকে পিষে দেয়। সোমবার রাত ১০টা নাগাদ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মুম্বই পুলিশের যুগ্ম–নগরপাল সত্য নারায়ণ চৌধুরী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে। বাসের চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ৪ জন নিহতের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
ভান্ডুপ রেলওয়ে স্টেশনের বাইরের এলাকাটি খুবই জনবহুল এবং সদা ব্যস্ত। কম দামে সবজি পাওয়া যায় বলে সবসময় ভিড় থিকথিক করে। হকার এবং প্রচুর ভিড়ের কারণে ভান্ডুপ স্টেশনের বাইরে বাসগুলির ইউ টার্ন নিতেও সমস্যা হয়। সোমবার রাতে বাসের জন্য সকলেই অপেক্ষা করছিল। থামার কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন বাসটিকে ধাক্কা দিতে শুরু করে। চালক বাসটি ছেড়ে দেন। এর ফলে অনেক লোক বাসের নীচে চাপা পড়েন। বাসটি একটু এগিয়ে থেমে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পয়েই মুম্বই ফায়ার ব্রিগেড, স্থানীয় পুলিশ, BEST বাস কর্মী এবং ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থালে ছুটে আসে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ৩ মহিলাসহ ৪ জন বাসের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে মারা গেছেন। ৯ জন আহত। দুর্ঘটনার পরপরই দোকানদাররা দোকান বন্ধ করে দেয়। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছয় এবং দুর্ঘটনাস্থলটি সিল করে দেওয়া হয়। ফরেনসিক দল এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে।
নিহতরা হলেন প্রণিতা সন্দীপ রাসম (৩৫), বর্ষা সাওয়ান্ত (২৫), মানসী মেঘশ্যাম গুরব (৪৯) এবং প্রশান্ত শিন্ডে (৫৩)। ১২ বছর বয়সী এক মেয়েসহ আরও নয়জনকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। প্রশান্ত দত্তরাম লাড (৫১) নামে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ১ জন মহিলা। আহতদের ঘাটকোপারের রাজাওয়াড়ি হাসপাতাল, মুলুন্ড পশ্চিমের এমটি আগরওয়াল মিউনিসিপ্যাল জেনারেল হাসপাতাল, সিওন হাসপাতাল, মুলুন্ডের ফোর্টিস হাসপাতাল, মুলুন্ডের হীরা মোঙ্গি হাসপাতাল এবং ভান্ডুপের মিনাজ হাসপাতাল সহ একাধিক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রাজ্য সরকার হাসপাতালগুলিকে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হেমরাজ রাজপুত জানিয়েছেন যে, নিহতদের মধ্যে পথচারীও রয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, গাড়ির অবস্থাসহ সব দিক তদন্ত করে দেখা হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে, ফুটপাত দখল করে থাকা হকারদের কারণে পথচারীরা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়েছিল। যার ফলে দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়। মুম্বই পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, বাস চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘তদন্তের অংশ হিসেবে বাসটি যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটির জন্য পরীক্ষা করা হবে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যাবে।’ বেস্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, চালকের মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে এবং গাড়ির ব্রেক এবং গিয়ার সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে।
বৃহন্নুম্বই ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট আন্ডারটেকিং বাসের এটা দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। গত বছর ৯ ডিসেম্বর একই রকম এক দুর্ঘটনায় একটা বৈদ্যুতিক বেস্ট বাস বেশ কয়েকজন পথচারী এবং প্রায় ২২টি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বাসটি প্রায় ২০০ মিটার এগিয়ে গিয়ে কুরলার এসজি বারভে মার্গে ডাঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর নগরের দিকে যাওয়ার সময় একটা সিমেন্টের গেটে ধাক্কা খেয়ে থামতে বাধ্য হয়। ওই দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৪২ জন আহত হন।